সিন্ডিকেট নির্মূলে কড়া মুখ্যমন্ত্রী, ওড়িশা থেকে পাকড়াও কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যজুড়ে সিন্ডিকেট রাজ সমূলে উৎপাটন করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি, তার আগেই বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। মঙ্গলবার ওড়িশার জাজপুর থেকে আনন্দপুর এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা নারায়ণ রঞ্জিত এবং তার শাগরেদ গোপাল মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃত নারায়ণ কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এই গ্রেপ্তারিকে রাজ্যে ‘সিন্ডিকেট সংস্কৃতি’ বন্ধের পথে প্রথম বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাফল্য এল ওড়িশা অভিযানে
গত সপ্তাহে আনন্দপুর পূর্ব পাড়ায় নারায়ণ রঞ্জিতের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি ৯ মিমি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই ঘটনার পর থেকেই ফেরার ছিল অভিযুক্তরা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আনন্দপুর থানার পুলিশ ওড়িশায় অভিযান চালায় এবং অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের পাকড়াও করে। জানা গেছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে এলাকায় তোলাবাজি, নির্মাণকাজে বাধা এবং অবৈধ সিন্ডিকেট চালানোর একাধিক অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
কড়া বার্তার পরেই সক্রিয় প্রশাসন
ক্ষমতায় আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। সোমবার বিধায়ক ও জেলাশাসকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি নির্দেশ দেন, রাজ্যের প্রতিটি কোণ থেকে সিন্ডিকেট উপড়ে ফেলতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পরেই পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পায়, যার ফলশ্রুতিতে এই গ্রেপ্তারি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দলের ঘনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও এই কঠোর পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেবে। অন্যদিকে, বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার ও সিন্ডিকেট চক্রের মাথাদের গ্রেপ্তার হওয়ায় ভবিষ্যতে তোলাবাজি ও নির্মাণ সংক্রান্ত অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে মনে করছে প্রশাসন। অভিযুক্তদের কলকাতায় এনে জেরা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যাতে এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত তা খতিয়ে দেখা সম্ভব হয়।
