সিবিএসই দ্বাদশে শতভাগ পাসের নজির চুঁচুড়ার টেকনোর, কৃতী সংবর্ধনায় আবেগঘন স্কুল চত্বর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বুধবার সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) পরিচালিত দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। দেশজুড়ে লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর ভিড়ে এ বছর সাফল্যের এক অনন্য নজির গড়েছে হুগলির চুঁচুড়ার টেকনো ইন্ডিয়া পাবলিক স্কুল। বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য—তিন বিভাগ মিলিয়ে স্কুলের ২১৮ জন পরীক্ষার্থীর সকলেই সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। ১০০ শতাংশ পাসের হারের পাশাপাশি পড়ুয়াদের অসাধারণ প্রাপ্ত নম্বর সামগ্রিকভাবে স্কুলের শিক্ষা পরিকাঠামো ও সঠিক দিকনির্দেশনার সাফল্যকে প্রকাশ করছে। এই গৌরবময় অর্জনকে উদযাপন করতে বৃহস্পতিবার স্কুল প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে আবেগঘন রূপ নেয়।
মেধার জয়জয়কার ও নজরকাড়া সাফল্য
এ বছর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ জন ছাত্রছাত্রী ৯৫ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে সেরাদের তালিকায় নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছে। মোট ৫০০ নম্বরের মধ্যে ৪৯১ নম্বর পেয়ে স্কুলে প্রথম স্থান অধিকার করেছে অভীক গুছাইত, তার প্রাপ্ত নম্বরের হার ৯৮.২ শতাংশ। মেধার এই দৌড়ে অনবদ্য পারফর্ম করেছে জয়দেব দাস (৪৮৮), সূর্যায়ু সান্যাল (৪৮৬), রুচিরা মুখোপাধ্যায় (৪৮৩) এবং অসিন মণ্ডল (৪৮১)। এ ছাড়াও সুদর্শন আহির, সমবৃতা মিত্র মজুমদার, স্বর্ণশ্রী ভাড়, প্রাপ্তি ঘোষ, অঙ্কনা ভাড়, উড়না রাউত, রুদ্র দাস ও রোহন দত্তদের মতো একঝাঁক পড়ুয়ার দুর্দান্ত ফলাফল স্কুলের সুনামকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে ৩১ জন পরীক্ষার্থী ৯০ থেকে ৯৮ শতাংশের ঘরে নম্বর তুলে এনে মেধার শক্তিমত্তা প্রমাণ করেছে।
সাফল্যের কারণ ও দূরগামী প্রভাব
এই বিপুল সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে বছরভর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সুপরিকল্পিত শিক্ষাদান পদ্ধতি, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং পড়ুয়াদের একনিষ্ঠ অধ্যবসায়। অতিমারি-উত্তর সময়ে পঠনপাঠনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বোর্ড পরীক্ষার ভীতি দূর করতে স্কুলের বিশেষ নজরদারি এই শতভাগ পাসের ক্ষেত্রে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। বিদ্যালয়ের এই গৌরবময় ফল আগামী শিক্ষাবর্ষে নতুন পড়ুয়াদের মানসম্মত ফলাফলের দিকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে। পাশাপাশি, হুগলি জেলা তথা সমগ্র রাজ্যের শিক্ষা মানচিত্রে টেকনো ইন্ডিয়া পাবলিক স্কুলের এই কৃতিত্ব প্রতিষ্ঠানটির গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বস্ততা আরও বৃদ্ধি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। সংবর্ধনা সভায় কৃতীদের হাতে পুষ্পস্তবক, মিষ্টি ও উপহার তুলে দিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের আগামী দিনের উচ্চশিক্ষার পথকে শুভকামনা জানায়।
