সিবিএসই ফলাফলেই কি লুকিয়ে গলদ, ওএসএম পদ্ধতি ঘিরে দেশজুড়ে বাড়ছে ক্ষোভ ও বিতর্ক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)-এর দ্বাদশ শ্রেণির ফলাফল প্রকাশের পর দেশজুড়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বহু পড়ুয়া ও অভিভাবক অভিযোগ তুলেছেন, উত্তরপত্রের কিছু অংশ মূল্যায়নই করা হয়নি, আবার অনেকের ক্ষেত্রে প্রত্যাশার চেয়ে অস্বাভাবিক কম নম্বর এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যা বোর্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ফলাফলের নির্ভুলতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছে বোর্ডের নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ বা ওএসএম ব্যবস্থা। এই জটিল পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা দফতরের সচিব সঞ্জয় কুমার। তিনি স্বীকার করেছেন যে, এত বিপুল সংখ্যক উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কিছু বিচ্ছিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটেছে।
নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ ও বোর্ডের যুক্তি
বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওএসএম পদ্ধতিতে পরীক্ষকদের কম্পিউটারের স্ক্রিনে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে হয়। এটি মূলত মূল্যায়নে স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা এবং মানের সামঞ্জস্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। শিক্ষা সচিবের দাবি, এই প্রযুক্তি একেবারে নতুন নয়, ২০১৪ সালেও এটি চালুর চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু পরিকাঠামোর অভাবে সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষা বোর্ড এবং ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস অফ ইন্ডিয়ার মতো সংস্থাতেও এই ধরনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এবারের মূল্যায়নে প্রায় ৩ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে ৭৭ হাজার শিক্ষককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে এই কাজে যুক্ত করা হয়েছিল। প্রতিটি উত্তরের প্রতিটি ধাপ আলাদা করে মূল্যায়নের কারণে মানবিক ভুল কমার কথা বলা হলেও, প্রাথমিক স্তরে কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি থাকার কথা মেনে নিয়েছে বোর্ড। তবে জানুয়ারি মাসে পাঁচটি স্কুলে এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ও ডেমো দেখানো হয়েছিল বলে বোর্ড জানিয়েছে।
ক্ষোভের কারণ ও আগামী দিনের প্রভাব
পড়ুয়াদের মূল ক্ষোভের কারণ হলো, দ্বাদশ শ্রেণির এই ফলাফলের ওপরই তাদের উচ্চশিক্ষায় কলেজে ভর্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। সামান্য নম্বরের এদিক-ওদিক তাদের পুরো কর্মজীবনকে প্রভাবিত করতে পারে। বোর্ড স্পষ্ট করেছে যে, নম্বর দেওয়ার নিয়মে কোনো বদল হয়নি এবং পাশের হারের ওঠানামার সাথে ওএসএম পদ্ধতির কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে বোর্ড ইতিমধ্যেই একটি মাল্টি-লেয়ার পোস্ট-রেজাল্ট রিভিউ ব্যবস্থা এবং বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে। এ বছর প্রায় ৯ কোটি ৮৬ লক্ষেরও বেশি উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়েছে, যার মধ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে ১৩ হাজার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী ১৯ মে থেকে ২২ মে পর্যন্ত পরীক্ষার্থীরা স্ক্যান করা উত্তরপত্রের কপির জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং ২৬ মে থেকে ২৯ মে পর্যন্ত যাচাই ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন নেওয়া হবে। প্রতি আবেদনের জন্য ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নম্বর বাড়লে ফেরত দেওয়া হবে। এখন দেখার, এই পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বোর্ড ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভ কতটা প্রশমিত করতে পারে।
