সুযোগসন্ধানীদের জন্য বন্ধ দরজা, দলবদলের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কড়া অবস্থান বিজেপির – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/11/bjp-shamik-bhattacharya-dabgram-fulbari-meeting-2026-election-2026-01-11-08-51-36.jpg?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
বাংলায় একক শক্তিতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর অন্য দল থেকে ‘নেতা আমদানি’ করার জল্পনায় এবার সম্পূর্ণ জল ঢেলে দিল বিজেপি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেদার দলবদলের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার শাসক শিবিরের বিদায়ী সাংসদ বা বিধায়কদের জন্য দরজা বন্ধ করার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা বা তাগিদ না থাকায় এবার আর অতীত ভুলের পুনরাবৃত্তি করা হবে না।
তৃণমূলে ভালো-খারাপ বলে কিছু নেই
বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের স্পষ্ট বক্তব্য, তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের জন্য দলের দরজা এখন সম্পূর্ণ বন্ধ। ‘ভালো তৃণমূল’ বা ‘খারাপ তৃণমূল’ বলে কোনো ভাগ হয় না, বরং বর্তমানে তৃণমূল আর দুর্নীতি সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে। তবে তৃণমূলের যে সমস্ত সাধারণ সমর্থক এই দুর্নীতির বাইরে থেকে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের দলে নেওয়ার বিষয়টি কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং দলগতভাবে যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে যেমন দলে সুযোগসন্ধানীদের ভিড় আটকানো সম্ভব হবে, তেমনই দলের আদি ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমিত হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক ও নতুন সরকারের প্রশাসনিক ভূমিকা
রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককেও একটি কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। কোনো মুসলিম প্রার্থী না দিয়ে এবং সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের ওপর নির্ভরশীল না হয়েও যে রাজ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করা সম্ভব, তা এবারের ফলাফলে প্রমাণিত। এই প্রেক্ষিতে মুসলিম সম্প্রদায়কে ‘সংখ্যালঘু মানসিকতা’ ঝেড়ে ফেলে নিজেদের দেশের প্রথম সারির নাগরিক ভাবার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে কট্টরপন্থী রাজনীতিকে সব সম্প্রদায়ের জন্যই বিপজ্জনক উল্লেখ করে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, নতুন সরকারে জাত-ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত মানুষ সমানভাবে সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
দল ও প্রশাসনের পৃথকীকরণ এবং ‘চার ঘণ্টার কর্মী’ ছাঁটাই
নতুন সরকার গঠনের পর দল ও প্রশাসনের ভূমিকাকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখার নীতি নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার ওপর, যেখানে দল দৈনন্দিন কাজে কোনো হস্তক্ষেপ না করে কেবল ‘ওয়াচডগ’ বা প্রহরী হিসেবে কাজ করবে। তবে ঐতিহাসিক জয়ের পর দলের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো ভোটের ফল ঘোষণার দিন রাতারাতি ভোল বদলে যারা বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছে, সেই ‘চার ঘণ্টার বিজেপি কর্মীদের’ চিহ্নিত করে দল থেকে ছেঁটে ফেলা। বাংলায় দীর্ঘ রাজনৈতিক হিংসার ইতিহাসে বহু কর্মী প্রাণ হারালেও দল যে কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পথে হাঁটবে না, তা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। জনরোষের হাত থেকে প্রতিপক্ষ দলের বিদায়ী নেতাদের রক্ষা করে বিজেপি নিজেদের একটি ভিন্ন ধাঁচের রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রমাণ করতে বদ্ধপরিকর।
