“সে আমাকে ধর্ষণ করেছে!” রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে এক তরুণীর তীব্র আর্তনাদ, তারপর যা ঘটলো দেখে হতবাক পুলিশও- এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মথুরার পবিত্র নগরী বৃন্দাবনের রাস্তায় এক তরুণীর ভয়াবহ চিৎকারে সম্প্রতি শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রকাশ্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ তুলে বিচার চাইছিলেন ওই তরুণী। তবে ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের সামনে এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা পুরো বিষয়টিকে কেবল অপরাধের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে সম্পত্তি ও ঋণের এক জটিল লড়াইয়ের দিকে ইঙ্গিত করছে।
রাস্তায় হাইভোল্টেজ ড্রামা ও গুরুতর অভিযোগ
রামনরেতি পুলিশ চৌকির কাছে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক তরুণী কান্নায় ভেঙে পড়ে চিৎকার করে বলছেন যে তাঁর সঙ্গে অঘটন ঘটানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, যার সাথে তিনি লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন, সেই ব্যক্তি তাঁর পানীয়তে নেশার দ্রব্য মিশিয়ে দিয়ে তাঁর ওপর পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে এবং একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে।
১৫ লাখ টাকার ঋণ ও উপহারের বাড়ি
পুলিশি তদন্তে এই মামলার প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ার মতো একটি মোড় সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তি কিছুদিন আগে ওই তরুণীর মাকে একটি বাড়ি উপহার হিসেবে (Gift Deed) দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বাড়ির ওপর ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রায় ১৫ লাখ টাকার লোন বা ঋণ ছিল। বর্তমানে ওই ঋণের ১০ লাখ টাকা এখনও বকেয়া রয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, এই ঋণের টাকা মেটানো এবং সম্পত্তির দখল নিয়েই অভিযুক্তের সাথে তরুণীর মায়ের দীর্ঘদিনের বিবাদ চলছিল।
পুলিশের তদন্ত ও সম্ভাব্য দিক
মথুরার সিও (সদর) প্রীতম পাল সিং জানিয়েছেন যে, পুলিশ ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল অভিযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে। একইসঙ্গে তদন্তকারী আধিকারিকরা খতিয়ে দেখছেন যে, এই গুরুতর অভিযোগের পেছনে কি কোনো পুরনো সম্পত্তিগত বিবাদ কাজ করছে কি না। তরুণী প্রাপ্তবয়স্ক নাকি নাবালিকা, সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। অপরাধের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ১৫ লাখ টাকার দেনা নিয়ে চলা অশান্তি এই মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- বৃন্দাবনের রাস্তায় লিভ-ইন পার্টনারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে তরুণীর বিক্ষোভ।
- পুলিশের তৎপরতায় অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রেফতার ও মামলা দায়ের।
- তদন্তে উঠে এসেছে ১৫ লাখ টাকার ব্যাংক লোন ও একটি বাড়ি নিয়ে পুরনো বিবাদ।
- অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বাড়িটি তরুণীর মাকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন।
- ধর্ষণের অভিযোগ নাকি সম্পত্তি দখল নিয়ে শত্রুতা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
