সোনারপুরে জনরোষের মুখে অভিষেক, হামলার নিন্দা করেও ‘হিরো’ সাজার খোঁচা দিলীপের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ঠিক ২৬ দিন পর সোনারপুরে এক বেনজির পরিস্থিতির মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সেখানে একটি প্রকাশ্য কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে তীব্র জনরোষের শিকার হন তিনি। স্থানীয় জনতার মারধর, ডিম বৃষ্টি এবং স্লোগানের জেরে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতাকে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেও যেতে হয়। বর্তমানে বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
পুলিশি তৎপরতা ও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। সোনারপুর থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জন স্থানীয় বাসিন্দাকে গ্রেফতার করেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও খাতায়-কলমে কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের না করা হলেও, আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন।
জনগণের ক্ষোভ বনাম রাজনৈতিক তরজা
এই হামলার তীব্র নিন্দা করেও তৃণমূল নেতৃত্বকে পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই এবং এই ঘটনাটি ঘটা উচিত হয়নি। তবে এর পেছনে দীর্ঘদিনের জনরোষ কাজ করছে বলে তিনি দাবি করেন। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, গত ১৫ বছর ধরে মানুষ যা সহ্য করেছে, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ। নির্বাচনের ফলাফল দেখার পর পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝা উচিত ছিল মন্তব্য করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২২টি গাড়ির কনভয় নিয়ে ঘুরে বেড়ানো নেতা কেন সেখানে আচমকা ‘হিরো’ হতে গিয়েছিলেন।
সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক পরেই শাসকদলের এমন শীর্ষস্তরের নেতার ওপর এই ধরনের হামলা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে এই ঘটনার পেছনে বিরোধী রাজনৈতিক উস্কানির অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এটিকে সরাসরি ‘জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
