সৌদি আরবের সহায়তায় আমিরাতের ঋণমুক্ত হলো পাকিস্তান, কিন্তু কাটছে না চরম অর্থনৈতিক সংকট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তীব্র আর্থিক অনটনের মাঝেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পাওনা ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ করল পাকিস্তান। স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমার আগেই ঋণের শেষ কিস্তির ১ বিলিয়ন ডলার মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত দুই দিন আগে সৌদি আরবের কাছ থেকে প্রাপ্ত বিশেষ আর্থিক সহায়তার পরেই এই পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়েছে ইসলামাবাদ। ২০১৯ সালে নেওয়া এই বিপুল অঙ্কের ঋণ শোধ করতে গিয়ে পাকিস্তানকে রীতিমতো আন্তর্জাতিক কূটনীতির কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
আবুধাবির অনমনীয় মনোভাব ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানের ওপর ঋণ পরিশোধের জন্য প্রবল চাপ তৈরি করেছিল। পাকিস্তান প্রাথমিকভাবে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানালেও আবুধাবি তাতে কর্ণপাত করেনি। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে পাকিস্তান বর্তমানে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে যে নতুন জোট গঠনের চেষ্টা করছে, তা আমিরাতের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক স্বার্থের পরিপন্থী। এছাড়া ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ায় ইসলামাবাদের অতি-সক্রিয়তাকেও ভালোভাবে নেয়নি ইউএই। এই মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণেই পাওনা আদায়ে আমিরাত অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিল।
সৌদি সহায়তায় স্বস্তি ও ঋণের পাহাড়
আমিরাতকে ঋণের শেষ কিস্তি পরিশোধ করতে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব ও কাতারের শরণাপন্ন হয়। শেষ মুহূর্তে রিয়াদের কাছ থেকে আসা তহবিলই ইসলামাবাদকে বড় ধরনের খেলাপি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছে। তবে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলারের এই ঋণ শোধ হলেও পাকিস্তানের সামগ্রিক অর্থনৈতিক মানচিত্র এখনও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। বর্তমানে দেশটির ওপর প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণের বোঝা চেপে রয়েছে। যার সিংহভাগ পাওনাদার চীন (৬৯ বিলিয়ন ডলার) এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। ফলে এক দেশের ঋণ শোধ করতে অন্য দেশের দ্বারস্থ হওয়ার এই প্রবণতা পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনীতিকে আরও ভঙ্গুর করে তুলছে।
এক ঝলকে
- সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পূর্ণ ঋণ শোধ করল পাকিস্তান।
- সৌদি আরবের কাছ থেকে পাওয়া ১ বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিলের মাধ্যমে এই ঋণ মেটানো হয়েছে।
- মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও কূটনৈতিক দূরত্বের কারণে ঋণ পরিশোধে কোনো ছাড় দেয়নি আমিরাত।
- বর্তমানে পাকিস্তানের ওপর মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার।
