সৌর বিদ্যুৎ ও স্মার্ট মিটার নিয়ে কেন্দ্রের কড়া শর্ত রাজ্যের, বিদ্যুৎ খাতে বড় বদল আনছে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আগামী দেড় বছরের মধ্যে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার (WBSEDCL) আওতাভুক্ত এলাকায় ২.৭০ লক্ষ গৃহস্থের ছাদে গ্রিড-সংযুক্ত সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক। শনিবার কলকাতায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহর লাল ও রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতরের কর্তাদের মধ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মূলত পিএম সূর্যঘর প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যজুড়ে পৌঁছে দিতে এবং বিদ্যুৎ পরিষেবার আধুনিকীকরণে এই সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই শর্তাবলি এবং বিদ্যুৎ অপচয় হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ওপরই রাজ্যের জন্য বরাদ্দের বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করবে।
স্মার্ট মিটার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত
বিদ্যুৎ পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ধাপে ধাপে সব সরকারি দফতর, সরকারি আবাসন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ গ্রাহকদের স্মার্ট মিটারের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত গ্রাহকের ঘরে স্মার্ট মিটার বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি দফতর ছাড়া বাকি গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রিপেইড ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক থাকছে না। গ্রাহকরা তাদের সুবিধা অনুযায়ী প্রিপেইড বা পোস্টপেইড পরিষেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে গ্রাহক নিজেও সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা
রাজ্যের বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাটির ক্ষেত্রে কারিগরি ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ অপচয় (AT&C loss) বর্তমানে ১৩ শতাংশের কিছু বেশি, যা ১২.১ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে কেন্দ্র। অতীতে বিদ্যুৎ অপচয় নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক সময়ে কাজের খামতির কারণে রাজ্যের প্রাপ্য অনুদান কিছুটা আটকে ছিল। এবার কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে রাজ্য নিজস্ব বিদ্যুৎ নীতি ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই শর্তগুলো পূরণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করাই এখন বিদ্যুৎ দফতরের প্রধান লক্ষ্য।
