স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া, আটকাতে গেল ছেলে! দু’জনকেই গুলিতে ঝাঁঝরা করে লাশের পাশে ঠায় বসে রইল সিকিউরিটি অফিসার – এবেলা

স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া, আটকাতে গেল ছেলে! দু’জনকেই গুলিতে ঝাঁঝরা করে লাশের পাশে ঠায় বসে রইল সিকিউরিটি অফিসার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

গুরুগ্রাম: পারিবারিক অশান্তির জেরে শনিবার মাঝরাতে এক হাড়হিম করা জোড়া হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল হরিয়ানার গুরুগ্রাম। স্ত্রীর সঙ্গে চরম ঝগড়ার মাঝে বাধা দেওয়ায় নিজের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল দিয়ে স্ত্রী ও ২৫ বছরের ছেলেকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দিল এক চিফ সিকিউরিটি অফিসার। গুলিবর্ষণের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ দেখে, রক্তাক্ত দুটি লাশের পাশে নিথর হয়ে বসে রয়েছে ঘাতক স্বামী।

ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে গুরুগ্রামের অশোক বিহার ফেজ-৩ কলোনিতে। নিহতদের নাম আশা (৪৫) ও প্রশান্ত (২৫)। আশা দেবী একটি বেসরকারি স্কুলের প্রিন্সিপাল ছিলেন। ঘাতক স্বামী ৫০ বছর বয়সী অনিলকে গ্রেফতার করেছে পালাম বিহার থানার পুলিশ।

ঝগড়া থামাতে গিয়েই প্রাণ গেল ছেলের:

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অনিল ও আশার মধ্যে প্রায়শই ঝামেলা হতো। শনিবার (১৩ জুন, ২০২৬) মাঝরাতেও তাঁদের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। বেডরুম থেকে ভেসে আসা বাবা-মায়ের চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে ছুটে আসে ছেলে প্রশান্ত। সে দু’জনকে শান্ত করার ও ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু রাগের মাথায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে অনিল নিজের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল বের করে স্ত্রী ও ছেলের ওপর পরপর গুলি চালায়। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে লাগা বুলেটের আঘাতে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে মৃত্যু হয় মা ও ছেলের।

লাশের পাশেই বসে রইল খুনি:

ঝড়ের গতিতে পরপর গুলির শব্দ শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। জানলা দিয়ে ঘরের ভেতরের হাড়হিম করা দৃশ্য দেখে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ও ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা সিল করে দেয়। ঘরের দরজা ভেঙে পুলিশ যখন ভেতরে ঢোকে, তখন অনিল তার স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহের পাশেই স্তব্ধ হয়ে বসে ছিল। পুলিশ দেহ দুটি উদ্ধার করে সিভিল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য দেহগুলি মর্গে পাঠানো হয়েছে।

অতীতে ছিলেন স্পোর্টস ট্রেনার:

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত অনিল অতীতে বিভিন্ন স্কুলে ফিজিক্যাল এডুকেশন টিচার (PET) এবং স্পোর্টস ট্রেনার হিসেবে কাজ করত। পরবর্তীতে সে একটি বেসরকারি সংস্থায় চিফ সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে যোগ দেয়। এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার অতীতের রেকর্ডও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।” মাঝরাতে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্তব্ধ গোটা এলাকা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *