স্ত্রী সন্তান ধারণে অক্ষম! রিপোর্ট আসতেই চমকে উঠলেন স্বামী

স্ত্রী সন্তান ধারণে অক্ষম! রিপোর্ট আসতেই চমকে উঠলেন স্বামী

বিয়ের পিঁড়িতে মিথ্যার আশ্রয়: স্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা

গুজরাটের আহমেদাবাদে এক চাঞ্চল্যকর বৈবাহিক জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। দাম্পত্যের দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর সন্তান না হওয়ায় চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য এবং মেডিকেল রিপোর্ট হাতে আসতেই তার মাথার আকাশ ভেঙে পড়ে। নিজের প্রকৃত বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার তথ্য গোপন করে বিয়ের পিঁড়িতে বসার অভিযোগে স্ত্রীর বিরুদ্ধে আহমেদাবাদের সরখেজ থানায় মামলা দায়ের করেছেন ওই যুবক।

দাম্পত্যের ফাটল ও চিকিৎসকের চমকপ্রদ তথ্য

২০২৩ সালের ১৯ জুন পারিবারিকভাবে পালানপুরের বাসিন্দা এক মহিলার সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন ওই যুবক। মেয়েটির বয়স ৩২ বছর—এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকে সন্তান দম্পতির দীর্ঘ প্রতীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একাধিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েও যখন কোনো সুরাহা মিলল না, তখন ওই ব্যক্তি স্ত্রীকে নিয়ে এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যান। सोनোগ্রাফি রিপোর্টের পর চিকিৎসক জানান, মহিলার জরায়ুতে গুরুতর সমস্যা রয়েছে। পাশাপাশি তার স্বাস্থ্যের অবস্থা বিশ্লেষণ করে চিকিৎসক জানান, ওই মহিলার প্রকৃত বয়স ৩২ নয়; বরং ৪০ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে। চিকিৎসকের মতে, এই বয়সে স্বাভাবিকভাবে সন্তান ধারণ করা প্রায় আসাম্ভব।

বয়স ও নথিপত্র জালিয়াতির নেপথ্যে

মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর স্ত্রী প্রথমে বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু চাপে পড়ে তিনি স্বীকার করেন যে, বিয়ের আগে তার বয়স এবং শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। স্বামীর অভিযোগ, জাল নথিপত্র তৈরি করে স্ত্রী নিজের জন্ম তারিখ ১৯৮৫ সাল থেকে বদলে ১৯৯১ সালে রূপান্তরিত করেছিলেন। বিয়ের পর থেকেই গোপনীয়তা বজায় রাখতে তিনি কৌশলে নিজের শংসাপত্র ও অন্যান্য নথি স্বামীর কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতেন। এছাড়া, প্রায়ই বাড়ি থেকে বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার প্রবণতাও ছিল স্ত্রীর মধ্যে।

প্রতারণার সামাজিক ও আইনি প্রভাব

এই ঘটনাটি কেবল স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত বিবাদ নয়, বরং সামাজিক সচেতনতার এক বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে। বিয়ের মতো পবিত্র বন্ধনে বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট কীভাবে ব্যক্তির ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে পারে, এটি তারই করুণ দৃষ্টান্ত। প্রতারিত স্বামী এখন বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে অটল। নিজের দাবির স্বপক্ষে তিনি পুলিশের কাছে দুই ঘণ্টার একটি অডিও রেকর্ডিং জমা দিয়েছেন, যেখানে স্ত্রী জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর নথিপত্র এবং শারীরিক অবস্থার সঠিক যাচাই না করার ফলেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • ঘটনাটি গুজরাটের আহমেদাবাদের সরখেজ এলাকায় ঘটেছে।
  • জুন ২০২৩ সালে ৩২ বছর বয়সের পরিচয় দিয়ে বিয়ে করেছিলেন ওই মহিলা।
  • সন্তান ধারণে জটিলতার পর মেডিকেল পরীক্ষায় স্ত্রীর আসল বয়স ৪০-৪২ বছর বেরিয়ে আসে।
  • স্ত্রীর জরায়ুতে গুরুতর সমস্যার কারণে মা হওয়া চ্যালেঞ্জিং বলে জানান চিকিৎসক।
  • জন্ম তারিখ ১৯৮৫ থেকে বদলে ১৯৯১ করার মতো গুরুতর জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে।
  • স্বামীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *