স্বাক্ষর বিতর্কে তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে সিআইডি, ‘ভূতে সই করল’ বলে বিস্ফোরক বাহারুল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চাঞ্চল্যকর স্বাক্ষর বিতর্ক প্রকাশ্যে এসেছে। রেজোলিউশনে বিধায়কদের স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করতে রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা (সিআইডি) সক্রিয় হতেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের পাশাপাশি ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক বাহারুল ইসলামের বাড়িতেও হানা দেন সিআইডির গোয়েন্দারা। সেখানে সিআইডি আধিকারিকদের সামনেই নিজের দলের নেতৃত্বকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিধায়ক বাহারুল ইসলাম।
তদন্তে সিআইডি ও বাহারুলের বিস্ফোরক দাবি
বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষরের সত্যতা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। অভিযোগ উঠেছে, বিরোধী দলনেতার নাম চূড়ান্ত করার রেজোলিউশনে কিছু বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এই তদন্তের সূত্র ধরেই সিআইডি ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলামের মুখোমুখি হয়। গোয়েন্দাদের প্রশ্নের জবাবে বাহারুল ইসলাম সাফ জানান, গত ৬ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির হাইপ্রোফাইল বৈঠকে তিনি উপস্থিতই ছিলেন না। ভোট পরবর্তী হিংসার কারণে সেই দিন তিনি সারাদিন ভাঙড়ের বাড়িতেই ছিলেন। বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও রেজোলিউশনে তাঁর নাম ও স্বাক্ষর কীভাবে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাহারুল সিআইডির সামনেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “যদি মিটিংয়েই না যাই, তাহলে সইটা কি ভূতে করল?”
ঘটনার পটভূমি ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ১৫ বছরের শাসকদল থেকে বিরোধী আসনের তকমা পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপরই ৬ মে নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডেকে সর্বসম্মতিক্রমে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে পেশ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, সমস্ত বিধায়কদের স্বাক্ষর সম্বলিত রেজোলিউশন স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার পরেই বিরোধী দলনেতার মর্যাদা চূড়ান্ত হয়। কিন্তু প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেটারহেডে নাম পাঠানো এবং পরবর্তীতে রেজোলিউশনে বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় পুরো প্রক্রিয়াটি আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। দলের বিধায়ক নিজেই পরোক্ষভাবে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালের অভিযোগ তোলায় তীব্র কটাক্ষ করেছে বিরোধী শিবির। বিধানসভার প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় এই ঘটনা প্রসঙ্গে শাসকদলকে আক্রমণ করে দাবি করেছেন, সম্মতিপত্রে বিধায়করা হয়তো সই-ই করতে চাননি, ফলে দীর্ঘ সময় ধরে এমন বহু জাল সইয়ের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বাক্ষর বিতর্ক ও সিআইডি তদন্তের জেরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ নির্ধারণের বিষয়টি আরও দীর্ঘায়িত ও আইনি গ্যাঁড়াকলে পড়তে চলেছে, যা দলের ভাবমূর্তির জন্যও বড় ধাক্কা।
