স্বাস্থ্যসাথী না আয়ুষ্মান ভারত? দোলাচলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চরম দুর্ভোগে সাধারণ রোগীরা

স্বাস্থ্যসাথী না আয়ুষ্মান ভারত? দোলাচলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চরম দুর্ভোগে সাধারণ রোগীরা

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড। এই প্রকল্প কি আদৌ সচল থাকবে, নাকি তার জায়গা নেবে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’—এই ধন্দেই এখন অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম। সরকারি স্তরে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা না আসায় অনেক হাসপাতালই কার্ড ফিরিয়ে দিচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জরুরি চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা সাধারণ রোগীদের ওপর।

বিভ্রান্তিতে পরিষেবা ব্যাহত

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নার্সিংহোমগুলোর মধ্যে দ্বিমুখী অবস্থান দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি কার্ড প্রত্যাখ্যান করছে, আবার কেউ ‘বেড খালি নেই’ এমন কৌশলগত অজুহাত দিচ্ছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া টাকা। নার্সিংহোমগুলোর দাবি, রাজ্য সরকারের কাছে তাদের বিশাল অঙ্কের অর্থ পাওনা রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই টাকা আদায় হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তারা নতুন করে বকেয়ার বোঝা বাড়াতে নারাজ।

নার্সিংহোম সংগঠনের অবস্থান ও মানবিক আবেদন

সংকটকালীন এই পরিস্থিতিতে রোগীদের স্বার্থে নমনীয় হওয়ার বার্তা দিচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতাল সংগঠন। ‘প্রাইভেট নার্সিংহোম অ্যান্ড হসপিটালস ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর মতে, সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা ঠিক হবে না। সংগঠনটি আশাবাদী যে, নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পাওনা টাকা মিটিয়ে দেবে। মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতেও মানবিক দিক বিবেচনা করে পরিষেবা চালু রাখার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় অ্যাসোসিয়েশনগুলো। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেক ছোট নার্সিংহোম ঝুঁকি নিতে চাইছে না, যার ফলে বিভ্রান্তি ক্রমশ বাড়ছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও রূপরেখা

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, নতুন সরকার প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালুর ঘোষণা করতে পারে। এই রূপান্তরের সময় স্বাস্থ্যসাথীর আওতাভুক্ত সব নাগরিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদি স্বাস্থ্যসাথী থেকে আয়ুষ্মান ভারতে যাওয়ার প্রক্রিয়া মসৃণ না হয়, তবে বকেয়া টাকা নিয়ে হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সরকারের সংঘাত আরও বাড়তে পারে। প্রশাসনিক স্পষ্ট নির্দেশিকার অভাবে এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে গরিব মানুষের সঠিক চিকিৎসা পাওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *