মাথায় নেই ছাদ, দুশ্চিন্তায় কাটছে রাত: বাংলার বাড়ির ৫৩ হাজার পরিবারের ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে!

মাথায় নেই ছাদ, দুশ্চিন্তায় কাটছে রাত: বাংলার বাড়ির ৫৩ হাজার পরিবারের ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে!

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের আবহে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের ৫৩ হাজার উপভোক্তা। গত সরকারের আমলে এই প্রকল্পের অধীনে ঘর তৈরির জন্য প্রথম কিস্তির টাকা পেলেও, দ্বিতীয় কিস্তি পাওয়ার আগেই প্রশাসনিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। ফলে বর্ষার আগে মাথার ওপর পাকা ছাদ পাওয়ার স্বপ্ন এখন ফিকে হতে বসেছে প্রান্তিক এই মানুষগুলোর কাছে।

আসামাপ্ত কাঠামোয় দুশ্চিন্তার পাহাড়

মূলত ‘আবাস প্লাস’ এবং ‘বিশেষ’ তালিকায় থাকা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারগুলোই এই প্রকল্পের প্রধান সুবিধাভোগী। প্রথম কিস্তির টাকায় অনেকেই পুরনো ঘর ভেঙে নতুন ঘরের ভিত বা দেওয়াল গেঁথেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় অন্তর দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও গত সেপ্টেম্বর থেকে সেই প্রক্রিয়া থমকে আছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘরের চাল না থাকায় ত্রিপল টাঙিয়ে দিন গুজরান করছেন উপভোক্তারা। সামনেই বর্ষাকাল হওয়ায় কাঁচা দেওয়াল ধসে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনিক ধোঁয়াশা ও প্রকল্পের ভবিষ্যৎ

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রকল্পের বকেয়া টাকা নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে এখনো স্পষ্ট কোনো নির্দেশিকা পৌঁছায়নি। প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্য সরকার কি নিজস্ব তহবিল থেকে এই বকেয়া মেটাবে, নাকি এই উপভোক্তাদের নাম কেন্দ্রীয় কোনো আবাসন যোজনায় নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হবে? এই নীতিগত সিদ্ধান্তের অভাবেই আটকে রয়েছে কয়েকশ কোটি টাকার বরাদ্দ। যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে জেলা স্তরের আধিকারিকরাও উপভোক্তাদের কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না।

প্রভাব ও সংকটের গভীরতা

এই দীর্ঘসূত্রতার ফলে কেবল যে নির্মাণকাজ আটকে আছে তা নয়, বরং গৃহহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। সময়মতো দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না মেটালে প্রকল্পের খরচ আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকছে। একইসঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় প্রান্তিক মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দানা বাঁধছে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কোনো ঘোষণা না এলে এই ৫৩ হাজার পরিবারের ভবিষ্যৎ আক্ষরিক অর্থেই মাঝপথে ঝুলে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *