৯৯ শতাংশ মানুষই জানেন না ঘুম থেকে ওঠার সঠিক সময়, জেনে নিন কী বলছে বিজ্ঞান ও আয়ুর্বেদ

৯৯ শতাংশ মানুষই জানেন না ঘুম থেকে ওঠার সঠিক সময়, জেনে নিন কী বলছে বিজ্ঞান ও আয়ুর্বেদ

আধুনিক জীবনযাত্রার দ্রুতগতি আর স্মার্টফোনের নেশায় বদলে গেছে মানুষের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা এবং সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা এখন অনেকেরই মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অনিয়মিত এই ঘুমের অভ্যাস ধীরে ধীরে আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাই সুস্থ থাকতে কেবল পুষ্টিকর খাবারই নয়, সঠিক সময়ে ঘুম থেকে ওঠা অত্যন্ত জরুরি।

ব্রহ্ম মুহূর্তের গুণাগুণ ও আয়ুর্বেদ

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, সূর্যোদয়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগের সময়কে বলা হয় ‘ব্রহ্ম মুহূর্ত’। সাধারণত ভোর ৪টা থেকে ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যবর্তী সময়কে এই ভাগে ফেলা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই এই সময়কে বিশুদ্ধ শক্তি ও প্রশান্তির উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে পরিবেশ থাকে শান্ত ও দূষণমুক্ত, যা মস্তিষ্ককে আরও সচল ও ইতিবাচক করে তোলে। বিশেষ করে পড়াশোনা, যোগব্যায়াম এবং ধ্যানের জন্য এই সময়টি সর্বোত্তম, কারণ তখন মানসিক একাগ্রতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে।

আধুনিক বিজ্ঞান ও জৈবিক ঘড়ি

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও সকালে দ্রুত ঘুম থেকে ওঠা শরীরের জন্য অপরিহার্য। মানবদেহে ‘সার্কেডিয়ান রিদম’ নামক একটি প্রাকৃতিক জৈবিক ঘড়ি থাকে, যা ঘুম, শক্তি এবং হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। সূর্যোদয়ের সময় শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যা আমাদের শরীরকে সতেজ ও কর্মক্ষম করে তোলে। অন্যদিকে, দেরিতে ঘুম থেকে উঠলে শরীরে ক্লান্তি, আলস্য এবং কাজে মনোযোগের অভাব দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে যা হজমের সমস্যা এবং মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বয়সভেদে ঘুমের আদর্শ সময়সূচি

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স ও কাজের ধরন অনুযায়ী ঘুম থেকে ওঠার সময় ভিন্ন হওয়া প্রয়োজন:

  • শিশু (৬-১৩ বছর): ৯-১১ ঘণ্টা ঘুম শেষে সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে।
  • তরুণ (১৮-২৫ বছর): ৭-৯ ঘণ্টা ঘুম শেষে ভোর ৫টা ৩০ মিনিট থেকে ৬টা ৩০ মিনিটের মধ্যে।
  • কর্মজীবী: ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম শেষে ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে।
  • প্রবীণ (৬৫+ বছর): ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম শেষে ভোর ৫টার আশেপাশে।

সকালে দ্রুত ওঠার অভ্যাস গড়তে রাতে হালকা খাবার খাওয়া, শোয়ার আগে ডিজিটাল পর্দা থেকে দূরে থাকা এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত ভোরে ঘুম থেকে উঠলে কেবল সারাদিন কর্মশক্তি বজায় থাকে না, বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী রোগব্যাধি প্রতিরোধেও বিশেষ ভূমিকা রাখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *