হাইকোর্টে মেগা ফাইট! ‘কয়েকজন বিধায়ক নয়, বিরোধী দলনেতা ঠিক করবে দলই’, ঋতব্রতের পদে স্থগিতাদেশ চেয়ে সওয়াল কল্যাণের – এবেলা

হাইকোর্টে মেগা ফাইট! ‘কয়েকজন বিধায়ক নয়, বিরোধী দলনেতা ঠিক করবে দলই’, ঋতব্রতের পদে স্থগিতাদেশ চেয়ে সওয়াল কল্যাণের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে তৃণমূল বনাম বিক্ষুব্ধ শিবিরের লড়াই এবার পৌঁছাল আদালত কক্ষে। “রাজ্যের বিরোধী দলনেতা কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেবে রাজনৈতিক দলই; দলের প্রতীকে জিতে আসা কয়েকজন বিধায়ক এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না”— ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে ঠিক এই ভাষায় সওয়াল করলেন তৃণমূলের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল পরিষদীয় নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের করা এই মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের এজলাসে রীতিমতো ঝড় তোলেন কল্যাণ। তিনি আদালতকে জানান, ঋতব্রতকে যে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা পাবলিক নোটিস পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।

এদিন শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের একটি পর্যবেক্ষণের কথা মনে করিয়ে দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজনৈতিক দল এবং পরিষদীয় দলের মধ্যে আকাশপাতাল তফাৎ রয়েছে। পরিষদীয় দল কার নির্দেশ মেনে কাজ করবে, তা ঠিক করে রাজনৈতিক দলই। তৃণমূল এবার ৮০টি আসন পেয়েছে, মানুষ আমাদের বিরোধী আসনে বসিয়েছে। তাই দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই স্থির করবেন কে হবেন বিরোধী দলনেতা।”

পাশাপাশি ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্পিকার রথীন্দ্র বসুর শপথগ্রহণের পর প্রোটোকল মেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁকে আসনে বসিয়েছিলেন। তখন ঋতব্রতর কোনও ভূমিকাই ছিল না। তাহলে আজ কোন যুক্তিতে তাঁকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দিয়ে বিধানসভায় ঘর দেওয়া হল?

বিক্ষুব্ধ শিবিরের সই জালিয়াতির প্রসঙ্গ তুলে কল্যাণ দাবি করেন, গত ১ জুন ঋতব্রত ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলবিরোধী আইন কার্যকর হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি স্পিকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার ওপর অবিলম্বে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া হোক। কারণ, আগামী ১৮ জুন থেকে বিধানসভার অধিবেশন শুরু হচ্ছে, যেখানে আসন বণ্টন করা হবে।

পাল্টা জবাবে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, যদি নির্দল বিধায়কদের সংখ্যা বেশি হয়, সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের ধারণা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে? কল্যাণের জবাব, তেমন পরিস্থিতিতে স্পিকার নিজে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে পশ্চিমবঙ্গের নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পেতে গেলে অন্তত ৩০টি আসন লাগে।

শোভনদেবের আইনজীবীর সওয়াল শেষ হওয়ার পর আদালত জানিয়েছে, এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী মঙ্গলবার। সেদিন স্পিকারের পক্ষ থেকে নিজেদের বক্তব্য পেশ করা হবে। এখন দেখার, বিধানসভার এই হাইভোল্টেজ আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার জয় হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *