হালিশহর থানায় পুলিশি হেফাজতে রহস্যমৃত্যু, ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার, তদন্তে পুলিশ – এবেলা

হালিশহর থানায় পুলিশি হেফাজতে রহস্যমৃত্যু, ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার, তদন্তে পুলিশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

হালিশহর: পুলিশি হেফাজতে এক অভিযুক্তের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো হালিশহর থানা এলাকায়। মৃতের নাম বিরজু কেওট (৪৪)। তিনি কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার জেনি শর্মা কেওটের স্বামী। শুক্রবার একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল হালিশহর থানার পুলিশ। কিন্তু শনিবার থানাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, লকআপের ভেতরে বিরজুর হাত-পা বেঁধে অমানুষিক অত্যাচার ও মারধর করা হয়েছে, আর তার ফলেই এই মৃত্যু। তবে পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার বিবরণ: পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে লকআপের মধ্যে বিরজুকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন অন ডিউটি পুলিশকর্মীরা। তড়িঘড়ি তাঁকে কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, হৃদরোগে আক্রান্ত হতেই এই ঘটনা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে।

পরিবারের দাবি: মৃতের স্ত্রী জেনি শর্মা জানান, শুক্রবার রাত ১০টা নাগাদ তিনি হালিশহর থানায় গিয়ে স্বামীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সে সময় বিরজু সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং পুলিশের করানো শারীরিক পরীক্ষাতেও কোনো বড় সমস্যা ধরা পড়েনি। জেনির দাবি, তিনি স্বামীর জন্য জামাকাপড় পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার পরেই লকআপে বিরজুর ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। স্থানীয় তৃণমূল নেতা অমিত গুপ্তা বলেন, ২০২০ সালের একটি খুনের ঘটনায় বিরজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, অথচ তাঁর নামে কোনো এফআইআর (FIR)-ই ছিল না।

তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন— এফআইআর-এ নাম না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে পুলিশ কাউকে হেফাজতে নিতে পারে এবং হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়? অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে উপযুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *