হিট স্ট্রোক কী? কারা এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন? – এবেলা

হিট স্ট্রোক কী? কারা এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

গ্রীষ্মের প্রখর তাপে প্রকৃতি এখন যেন এক জ্বলন্ত চুল্লি। সূর্যের এই প্রচণ্ড উত্তাপে জনজীবন ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানবদেহে। যখন শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং শরীর নিজেকে আর ঠান্ডা রাখতে পারে না, তখনই ঘটে হিট স্ট্রোক। এই অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়া এমনকি জ্ঞান হারিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারেন। বিশেষ করে যারা সরাসরি রোদে দীর্ঘক্ষণ কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি

হিট স্ট্রোকের ক্ষেত্রে বয়স্ক ব্যক্তিদের ঝুঁকি সাধারণের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। চিকিৎসকদের মতে, তরুণদের শরীর ঘামের মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হলেও বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের সেই স্বাভাবিক ক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে বয়স্কদের শরীর দ্রুত ঠান্ডা হতে পারে না এবং তারা সহজেই সানবার্ন বা হিট স্ট্রোকের শিকার হন। এছাড়া শিশু ও দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রেও এই সতর্কতা সমানভাবে প্রযোজ্য।

সুরক্ষায় করণীয় ও জীবনযাত্রা

তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে সুতির হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং দিনে অন্তত দুইবার স্নান করা অত্যন্ত জরুরি। শরীরকে আর্দ্র রাখতে জল, ফলের রস, ডাবের জল ও ঘোলের মতো তরল খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। দুপুরের প্রচণ্ড রোদে বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলাই শ্রেয়, তবে জরুরি প্রয়োজনে বের হলে ছাতা, সানগ্লাস এবং ওআরএস (ORS) সাথে রাখা জীবনরক্ষাকারী হতে পারে। ঘর ঠান্ডা রাখতে এসি বা কুলার ব্যবহারের পাশাপাশি জানালা বা পর্দা ব্যবহার করে সরাসরি রোদ ঢোকা বন্ধ করা প্রয়োজন।

জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা

কেউ রোদে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে দ্রুত ছায়াযুক্ত শীতল স্থানে নিয়ে যেতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির মুখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দেওয়া এবং ভেজা কাপড় দিয়ে সারা শরীর মুছে তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করা প্রাথমিক ধাপ। তবে অবস্থার উন্নতি না হলে কোনো প্রকার ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে বা অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্য নেওয়া উচিত। নিয়মিত সতর্কতা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসই পারে এই চরম আবহাওয়া থেকে জীবন বাঁচাতে।

এক ঝলকে

  • হিট স্ট্রোক হলো শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকেজো হয়ে যাওয়ার একটি গুরুতর অবস্থা।
  • স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম থাকায় বয়স্করা এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
  • প্রচুর পরিমাণে জল পান, সুতির পোশাক পরিধান এবং রোদে কঠোর পরিশ্রম এড়িয়ে চলা সুরক্ষার প্রধান উপায়।
  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শীতল স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে পাঠানো জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *