হেমতাবাদে আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের পর্দাফাঁস, গোরু ও মাদক পাচারে ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী! – এবেলা

হেমতাবাদে আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের পর্দাফাঁস, গোরু ও মাদক পাচারে ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কুখ্যাত এক আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। গোরু এবং মারাত্মক মাদক পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা আলী সাকিরুল ইসলাম। তিনি বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা হেমতাবাদের প্রাক্তন বিধায়ক সত্যজিৎ বর্মনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ‘ছায়াসঙ্গী’ হিসেবে পরিচিত। রবিবার ভোররাতে সম্পূর্ণ ফিল্মি কায়দায় মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে মাকরহাট এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। প্রভাবশালী এই শাসকদল নেতার গ্রেফতারিতে জেলার রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।

যেভাবে সামনে এল পাচারচক্রের হোতার নাম

সম্প্রতি হেমতাবাদের বামর বিওপি এলাকায় সীমান্তের কাঁটাতার কেটে ১২টি গোরু বাংলাদেশে পাচারের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ দুই বাংলাদেশি পাচারকারীকে পাকড়াও করে। তাদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ এবং বাজেয়াপ্ত হওয়া মোবাইল ফোন থেকেই এই তৃণমূল নেতার নাম উঠে আসে। পুলিশের দাবি, কাঁটাতার পেরিয়ে গোরু পাচার থেকে শুরু করে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ (ফেনসিডিল) ও ব্রাউন সুগারের মতো মাদক পাচারের মূল ‘কিংপিন’ ছিলেন খোদ এই অঞ্চল সভাপতি। বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের বয়ানের ভিত্তিতে জাল বুনে পুলিশ জানতে পারে যে সাকিরুল মাকরহাট এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে রয়েছেন। সেখানেই অতর্কিতে হানা দিয়ে তাঁকে হাতেনাতে ধরে হেমতাবাদ থানার পুলিশ।

একশো জনের গ্যাং এবং সম্ভাব্য প্রভাব

তদন্তে নেমে পুলিশ আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। জানা গিয়েছে, এই পাচারচক্রের সঙ্গে অন্তত একশো জন সক্রিয় দুষ্কৃতী জড়িত, যাদের অধিকাংশই ওপার বাংলার কুখ্যাত পাচারকারী। মাদক ও গোরু পাচারের পাশাপাশি ধৃত নেতা নাগর ও কুলিক নদী থেকে বেআইনি বালি পাচারের সিন্ডিকেটের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা আইনের কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে তাঁকে রায়গঞ্জ সিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এই বিশাল চক্রের পর্দাফাঁসের ফলে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও বেআইনি কার্যকলাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের মূল পান্ডা হিসেবে সরাসরি একজন দাপুটে শাসকদল নেতার নাম উঠে আসায় আগামী দিনে জেলার রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও বিরোধী রাজনীতিতেও এর বড়সড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধৃতের বাজেয়াপ্ত হওয়া মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া সন্দেহভাজন নম্বরগুলির সূত্র ধরে এই চক্রের অন্যান্য মাথাদেরও খুব দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *