১২ দিনে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত! বাংলায় জারি শুভেন্দু-ঝড়, বন্ধ ধর্মভিত্তিক অনুদান – এবেলা

১২ দিনে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত! বাংলায় জারি শুভেন্দু-ঝড়, বন্ধ ধর্মভিত্তিক অনুদান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তনের পর কুর্সিতে বসেই নজিরবিহীন অ্যাকশন মোডে দেখা যাচ্ছে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। শপথ গ্রহণের পর মাত্র ১২ দিন পার হতে না হতেই রাজ্য প্রশাসন একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে, যা রাজ্যের শাসনব্যবস্থা এবং সামাজিক ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং পূর্বতন সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে বদলে দিয়ে নতুন সরকার দ্রুত নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে নেমে পড়েছে।

বদল ও নতুন নিয়মের হিড়িক

নতুন সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের অধীনস্থ সমস্ত মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গান বাধ্যতামূলক করা। এর পাশাপাশি, পূর্বতন সরকারের আমলে আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো অবিলম্বে চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। এছাড়া, রাজ্যের ঝুলে থাকা আদমশুমারির কাজ দ্রুত শুরু করা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য আগামী দেড় মাসের মধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) ৬০০ একর জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। রাজ্যে কার্যকর করা হচ্ছে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ, যার ফলে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আসা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে।

প্রশাসনিক ও সামাজিক প্রভাব

প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় সংস্কার এনে আইএএস এবং ডব্লিউবিসিএস কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ শিবিরে পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা আগে বন্ধ ছিল। একই সঙ্গে রাজ্যে বলবৎ হচ্ছে নতুন কেন্দ্রীয় ফৌজদারি আইন। সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে ১ জুন থেকে চালু হতে যাওয়া ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’, যেখানে নারীদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় স্বস্তি দিয়ে সরকারি চাকরির সর্বোচ্চ বয়সমীমা ৫ বছর বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, জুন মাস থেকে মাদ্রাসা ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোকে দেওয়া বিশেষ আর্থিক অনুদান বন্ধ করে সমস্ত ক্ষেত্রে সমতার নীতি অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি, উপযুক্ত ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া গরু ও মোষ জবাইয়ের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

শাসনব্যবস্থার এই আমূল পরিবর্তনের মূল কারণ হলো রাজ্যে কেন্দ্রীয় নীতি ও আদর্শের পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটানো এবং পূর্বতন সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে প্রশাসনকে মুক্ত করা। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তগুলোর ফলে একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং কর্মপ্রত্যাশী যুবসমাজ উপকৃত হবে, অন্যদিকে ধর্মীয় অনুদান বন্ধ এবং মাদ্রাসা ও গবাদি পশু সংক্রান্ত নতুন নিয়মগুলো রাজ্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

এক ঝলকে

  • রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক এবং ১ জুন থেকে নারীদের জন্য চালু হচ্ছে মাসে ৩ হাজার টাকার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’।
  • আয়ুষ্মান ভারতের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু, থমকে থাকা আদমশুমারি শুরু এবং বিএসএফ-কে ৬০০ একর জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত।
  • সরকারি চাকরিতে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সমীমা ৫ বছর বৃদ্ধি এবং কর্মকর্তাদের জন্য কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক।
  • ধর্মীয় ভিত্তিতে বিশেষ আর্থিক সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত এবং ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া গবাদি পশু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *