১৯৯৭-এর যে প্রশ্নফাঁস আন্দোলন তাঁকে হিরো করেছিল, ২০ বছর পর আজ সেটাই কি কাল হলো ধর্মেন্দ্রর? – এবেলা

১৯৯৭-এর যে প্রশ্নফাঁস আন্দোলন তাঁকে হিরো করেছিল, ২০ বছর পর আজ সেটাই কি কাল হলো ধর্মেন্দ্রর? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দেশজুড়ে চলা চরম ছাত্র আন্দোলনের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। আর এই রাজনৈতিক পতনের পরেই সামনে এসেছে এক অদ্ভুত ও চমকপ্রদ সমাপতন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে একসময় ছাত্রনেতা হিসেবে উত্থান ঘটেছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের, দীর্ঘ দুই দশক পর সেই প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারিয়েই তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নেমে এল সবচেয়ে বড় বিপর্যয়।

১৯৯৭ সালের ওড়িশা এবং ধর্মেন্দ্রর লাইমলাইটে আসা: ইতিহাস বলছে, আজকের এই পতন যেখান থেকে শুরু, সেই ওড়িশার মাটিতেই প্রায় তিন দশক আগে এক অন্য রূপ দেখেছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সালটা ১৯৯৭। তৎকালীন ওড়িশার কংগ্রেস সরকারের আমলে পরীক্ষায় ব্যাপক প্রশ্নফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছিল গোটা রাজ্য। সেসময় ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জানকী বল্লভ পট্টনায়েক।

প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের অদূরেই প্রায় ১৫০০ বিক্ষুব্ধ ছাত্রের একটি দল নিয়ে এক ঐতিহাসিক বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল এবিভিপি (ABVP)। সেই উথাল-পাথাল আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে রাতারাতি গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়ে নিয়েছিলেন তরুণ ছাত্রনেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেদিন যে যুবক প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে রাজপথ কাঁপিয়েছিলেন, আজ দেশের শিক্ষামন্ত্রীর আসনে থাকাকালীন সেই একই বিষয় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় পরিহাসের কারণ হয়ে দাঁড়াল।

এবিভিপি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান: সেসময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)-এর ছাত্র শাখা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-র সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর নেতৃত্বে ভুবনেশ্বরের রাজপথ সেদিন ছাত্র বিক্ষোভে কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল।

তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১৮ বছর বয়সে ছাত্র রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। উৎকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যানথ্রোপলজির (নৃতত্ত্ব) ছাত্র থাকাকালীনই রাজনীতিতে নিজের শক্ত জমি তৈরি করেন তিনি। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে দু’দুবার এবিভিপি-র জাতীয় সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়ে সর্বভারতীয় স্তরে নিজের সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে ওড়িশায় বিজেপির ভিত মজবুত করার পিছনেও তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, যে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার গোড়াপত্তন হয়েছিল, আজ সেই প্রশ্নফাঁস ও ছাত্র আন্দোলনের আঘাতেই তাঁর মন্ত্রীত্বে ছেদ পড়ল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *