‘২০২১-এর থেকেও বেশি আসন পাবে তৃণমূল’, গণনার আগে আত্মবিশ্বাসী অভিষেক

‘২০২১-এর থেকেও বেশি আসন পাবে তৃণমূল’, গণনার আগে আত্মবিশ্বাসী অভিষেক

৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার প্রাক্কালে দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে বড়সড় ভবিষ্যদ্বাণী করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দলীয় কাউন্টিং এজেন্ট ও প্রার্থীদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তৃণমূলের এই ‘সেনাপতি’ দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে তৃণমূল ২০২১ সালের থেকেও বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় ফিরবে।

একুশের রেকর্ড ভাঙার চ্যালেঞ্জ

তৃণমূল সূত্রে খবর, বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন যে, মানুষের রায় স্পষ্ট এবং তা তৃণমূলের পক্ষেই গিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ২১৫টি আসন জিতেছিল। অভিষেক এদিন স্পষ্ট করে দেন, “এবার আমাদের লক্ষ্য ছিল একুশের রেকর্ড ভাঙা এবং আমি নিশ্চিত যে আমরা তার থেকেও বেশি আসন পেতে চলেছি।” তিনি এজেন্টদের নির্দেশ দেন যাতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট গণনায় কোনও ফাঁক না থাকে।

এক্সিট পোল ও ‘আর্থিক জালিয়াতি’র অভিযোগ

বিভিন্ন বুথফেরত সমীক্ষায় (Exit Poll) বিজেপিকে এগিয়ে রাখা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, এই ভুয়ো সমীক্ষাগুলো আদতে একটি সুপরিকল্পিত ‘আর্থিক জালিয়াতি’। তিনি দাবি করেন, শেয়ার বাজারকে প্রভাবিত করতেই বিজেপি এই ধরণের মনগড়া পরিসংখ্যান সামনে এনেছে। তাঁর কথায়, “বিজেপিও জানে তারা সরকার গড়তে পারবে না, তাই এখন ভুয়ো সমীক্ষার আড়ালে নিজেদের মুখ বাঁচানোর চেষ্টা করছে।” একই সুর শোনা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও, যিনি এই সমীক্ষাগুলোকে ‘স্টক মার্কেট ম্যানিপুলেশন’-এর হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এজেন্টদের জন্য কড়া নির্দেশিকা

গণনাকেন্দ্রের ভেতর এবং বাইরে যাতে কোনও কারচুপি না হয়, তার জন্য অভিষেক এজেন্টদের একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন:

  • টেবিল না ছাড়া: গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া এবং চূড়ান্ত শংসাপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত গণনাকেন্দ্রের টেবিল ছাড়া যাবে না।
  • সজাগ দৃষ্টি: ইভিএম খোলা এবং রাউন্ড অনুযায়ী হিসেব মেলাতে বিন্দুমাত্র অসঙ্গতি দেখলে তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ ও পুনর্গণনার দাবি জানাতে হবে।
  • আইনি পদক্ষেপ: পুলিশ পর্যবেক্ষক বা নির্বাচন আধিকারিকরা যদি নিয়মবহির্ভূত কিছু করেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে পরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

রাজীব কুমারকে দমদম-ব্যারাকপুরের দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূলের এই আত্মবিশ্বাসী সুর বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে গণনার আগের দিন আরও উত্তপ্ত করে তুলল। এখন দেখার, ৪ মে ইভিএম খোলার পর অভিষেকের এই ভবিষ্যদ্বাণী কতটা সফল হয়।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *