২১ মে পর্যন্ত সিজিও-ই ঠিকানা! ‘প্রভাবশালী’ সুজিতের কোটি কোটি টাকার লেনদেনে বিস্ফোরক ইডি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড়সড় মোড় নিল রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেফতারি। ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার রাতে গ্রেফতার হওয়া এই নেতাকে মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে আগামী ২১ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তদন্তের স্বার্থে এবং প্রভাবশালী তত্ত্বে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে রেখে জেরা করা একান্ত প্রয়োজন।
জেরা ও গ্রেফতারির নেপথ্য কারণ
আদালতে ইডির পক্ষ থেকে সুজিত বসুর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সব তথ্য পেশ করা হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতির অন্যতম অভিযুক্ত অয়ন শীলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যে দেখা গেছে যে সুজিত বসু একাধিক চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছিলেন। এছাড়া তদন্তে উঠে এসেছে জনৈক নিতাই দত্তের নামও। ইডির আইনজীবীরা জানান, প্রাক্তন মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার রহস্যজনক লেনদেনের হদিস পাওয়া গেছে। এমনকি করোনাকালে বন্ধ থাকা একটি রেস্তোরাঁ থেকেও বিপুল পরিমাণ আয় দেখানো হয়েছে, যার কোনো সদুত্তর সুজিত বসু দিতে পারেননি বলে দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার।
সম্ভাব্য প্রভাব ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালতে সওয়াল-জবাবের সময় ইডির পক্ষ থেকে বারংবার ‘প্রভাবশালী’ তত্ত্বটি তুলে ধরা হয়। তাঁদের যুক্তি, সুজিত বসু রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ক্ষমতাশালী হওয়ায় বাইরে থাকলে সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করার বা তদন্তকে প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে মামলার নথি থাকলেও কেন এখন গ্রেফতার করা হলো, তা নিয়ে সুজিতের আইনজীবীরা প্রশ্ন তোলেন। তবে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জেরা ও বয়ানে অসঙ্গতির অভিযোগে আদালত সুজিতকে ১০ দিনের জন্য সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এই গ্রেফতারি ও পরবর্তী জেরা রাজ্যের পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জাল কতদূর বিস্তৃত, তা নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
