২২ লাখ NEET পরীক্ষার্থীর সাথে প্রতারণা, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি রাহুল গান্ধীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নিট-ইউজি ২০২৬ (NEET-UG 2026) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে। দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের মুখে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এই ঘটনাকে তিনি দেশের ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরিশ্রমের সঙ্গে চরম ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থার এমন বিপর্যয়ের দায় নিয়ে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি।
প্রশ্ন ফাঁসের নেপথ্য ও বিরোধী নেতার অভিযোগ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, নিট পরীক্ষার অন্তত দুদিন আগে থেকেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিগত দুই বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করা লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এর ফলে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে। তাঁর দাবি, এই বিপুল অব্যবস্থাপনার পরও শিক্ষামন্ত্রী নিজের দায় এড়াতে পারেন না। গোটা বিষয়টিকে বিজেপি এবং আরএসএস-এর একটি পরিকল্পিত চক্র বা ‘নেক্সাস’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশে এ পর্যন্ত ৮০ বার বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে, যা প্রায় দুই কোটি তরুণের কর্মজীবন ধ্বংস করেছে।
সঙ্কটের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা
জাতীয় স্তরের এই শীর্ষ মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হওয়ায় চিকিৎসা শিক্ষার মান এবং যোগ্য প্রার্থীদের মূল্যায়ন নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশ্ন ফাঁসের এই ঘটনা সৎ ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার পাশাপাশি দেশের গোটা শিক্ষাতন্ত্রের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, পরীক্ষার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গঠিত কমিটিতে বিরোধীদের রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার তা অগ্রাহ্য করেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ও শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
এক ঝলকে
- নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পরীক্ষার দুদিন আগেই হোয়াটসঅ্যাপে ফাঁস হওয়ার অভিযোগ।
- দেশজুড়ে ২২ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি রাহুল গান্ধীর।
- প্রশ্ন ফাঁসের এই ঘটনাকে শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরের একটি বড় চক্রের (নেক্সাস) ফল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- এই জাতীয় সংকটের জেরে যোগ্য শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম বৃথা যাওয়ার আশঙ্কা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
