৪০ মিনিটের তাণ্ডব! প্রাণ কাড়ল ১০ জনের, মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ধ্বংসপুরী বেঙ্গালুরু

৪০ মিনিটের তাণ্ডব! প্রাণ কাড়ল ১০ জনের, মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ধ্বংসপুরী বেঙ্গালুরু

তীব্র দাবদাহের পর স্বস্তির বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও তা বেঙ্গালুরুর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার বিকেলে মাত্র ৪০ মিনিটের প্রলয়ংকরী বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার বেগের ঝোড়ো হাওয়া শহরটিকে এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং শহরের জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। মধ্য বেঙ্গালুরুতে রেকর্ড ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় এমজি রোড এবং কোরমঙ্গলার মতো ব্যস্ত এলাকাগুলো এখন জলর নিচে।

মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র

শিভাজিনগরের বাউরিং হাসপাতাল সংলগ্ন দেওয়াল ধসে পড়ার ঘটনায় সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬ বছরের এক শিশু এবং কেরালার এক পর্যটকও রয়েছেন। এছাড়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এবং ঝড়ে উড়ে আসা টিনের আঘাতে আরও তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্যোগের কবলে পড়ে শহরের বিখ্যাত ‘দ্য বুকওয়ার্ম’ বই দোকানের প্রায় ৫ হাজার বই নষ্ট হয়ে গেছে, যা সাংস্কৃতিক ও আর্থিকভাবে এক বড় ক্ষতি।

বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা

ঝড়ের তীব্রতায় অন্তত ৫০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে গেছে এবং ১৭টি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে শহরের বড় একটি অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ বিভাগের হেল্পলাইনে কয়েক হাজার কল এলেও পরিকাঠামোগত বিপর্যয়ের কারণে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং পুর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত বিশেষ প্রকৌশলী দল মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিয়েছেন। আবহাওয়া দপ্তর আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় শহরজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এক ঝলকে

  • মাত্র ৪০ মিনিটের বৃষ্টি ও ঝড়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
  • দেওয়াল ধসে সাতজন এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাকিদের মৃত্যু ঘটে।
  • শহরের প্রধান সড়কগুলো ২-৩ ফুট জলর নিচে তলিয়ে গেছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
  • আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *