৪ জুনের মধ্যে ফেরাতে হবে আবাসের কাটমানি, কোচবিহারে মাইক বাজিয়ে হুঁশিয়ারি আমজনতার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কোচবিহারে কাটমানি বা তোলাবাজির টাকা ফেরত পেতে এক নজিরবিহীন প্রতিবাদের সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। এতদিন যে ‘কাটমানি’ নিঃশব্দে হজম করে নেওয়ার রেওয়াজ ছিল, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার তা সুদ-আসলে উশুল করতে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে নেওয়া টাকা আগামী ৪ জুনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার দাবিতে এখন রীতিমতো মাইক ভাড়া করে গ্রামে গ্রামে প্রচার চালাচ্ছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ঘুঘুমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭৩ নম্বর বুথ এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
জনরোষের মুখে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘুঘুমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭৩ নম্বর বুথের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য জ্যোৎস্না বর্মনের বাড়ি লক্ষ্য করে হঠাৎই তীব্র গণবিক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার শয়ে শয়ে বাসিন্দা। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট অভিযোগ, আবাস যোজনার সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি আদায় করেছিলেন ওই তৃণমূল সদস্য ও তাঁর অনুগামীরা। টাকা না দিলে ঘরের পরবর্তী কিস্তির টাকা আটকে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন শাসকদলের ভয়ে মুখ বুজে সেই টাকা তুলে দিয়েছিলেন নিঃস্ব গ্রামবাসীরা। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা বদলের পর ভয়ের চাদর ঝেড়ে ফেলে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বাসিন্দারা।
টাকা ফেরতের ডেডলাইন ও মাইকিং
নিজেদের হকের টাকা ফেরত পেতে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি ঘেরাও করে একটানা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন গ্রামবাসীরা। শেষমেশ তীব্র জনরোষের মুখে পড়ে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হন ওই জনপ্রতিনিধি। আগামী ৪ জুনের মধ্যে সমস্ত কাটমানির টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি লিখিত ও মৌখিক প্রতিশ্রুতি দেন। তবে শুধু মুখের কথায় আর ভরসা না রেখে গ্রামবাসীরা এখন সেই প্রতিশ্রুতির কথা ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে ও মাইক বাজিয়ে গোটা এলাকায় শোনাচ্ছেন, যাতে নির্দিষ্ট ডেডলাইনের কথা কেউ ভুলে না যান। ৪ জুন টাকা ফেরত না পেলে আন্দোলন আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা। দলবদলের বাজারে কাটমানি ফেরতের এই অভিনব উদ্যোগ এখন উত্তরবঙ্গের অন্যতম চর্চিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
