৬০ দিনের তেল-গ্যাস মজুত, তবুও কেন জ্বালানি সাশ্রয়ের ডাক? কেন্দ্রের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ফাঁস! – এবেলা

৬০ দিনের তেল-গ্যাস মজুত, তবুও কেন জ্বালানি সাশ্রয়ের ডাক? কেন্দ্রের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ফাঁস! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ শক্তি সুরক্ষা এই মুহূর্তে যথেষ্ট মজুত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬০ দিনের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ৪৫ দিনের এলপিজি মজুত রয়েছে। তা সত্ত্বেও অর্থনীতিকে বড়সড় ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে জ্বালানি সংরক্ষণে দেশবাসীকে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছে কেন্দ্র। সোমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর একটি ‘জাতীয় মিশন’-এর রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কৃচ্ছ্রসাধন

ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল শোধক দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমদানির ওপর প্রবলভাবে নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চড়া দামের কারণে দেশের রাজকোষে বড়সড় টান পড়ছে। যদিও সরকার সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রেখেছে, কিন্তু এর ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি দৈনিক প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা লোকসান করছে। হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে এই ক্ষতির পরিমাণ ২ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই বিপুল আর্থিক বোঝা কমানোর লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জ্বালানির অপচয় রোধ এবং বিচক্ষণ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

আমদানি নির্ভরতা কমানোর রণকৌশল

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ৭৩০ বিলিয়ন ডলারের স্বস্তিদায়ক জায়গায় থাকলেও, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে তা সুরক্ষিত রাখাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। এই জাতীয় মিশনের অংশ হিসেবে নাগরিকদের গণপরিবহন ব্যবহার, কার-পুলিং এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের ব্যবহার ৫০ শতাংশ কমিয়ে প্রাকৃতিক চাষে গুরুত্ব এবং ডিজেল পাম্পের বদলে সৌরচালিত পাম্প ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সারের উচ্চ উৎপাদন ও আমদানি ব্যয় সরাসরি ভারতের শক্তি খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা কমানো গেলে দেশের দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য ও শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সতর্কবার্তা

সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে যে দেশে জ্বালানি বা অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই, তাই আতঙ্কিত হয়ে মজুত করার প্রয়োজন নেই। মূলত উচ্চমূল্যে তেল কেনার প্রবণতা কমিয়ে বর্তমান ভাণ্ডারকে দীর্ঘস্থায়ী করতেই এই সংরক্ষণ নীতি। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভারত এখন দ্রুত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির প্রসার এবং শক্তি দক্ষতা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে চাইছে। রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রীদের গোষ্ঠী (IGoM) নিশ্চিত করেছে যে, সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ সুরক্ষিত রাখা এবং শক্তির নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ বজায় রাখতে সব ধরনের সামরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *