অগ্নিগর্ভ হরমুজ প্রণালী ও বিশ্ববাজারে তেলের দামে রেকর্ড আগুন! ভারতে কি তবে মধ্যবিত্তের পকেটে টান? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতি এখন খাদের কিনারায়। ওমান ও পারস্য উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি এবং ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত তেলের মূল্যে, যা গত কয়েক বছরের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার পথে।
উর্ধ্বমুখী ক্রুড অয়েল ও বিশ্ববাজারের অস্থিরতা
গত কয়েকদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড এবং ডব্লুটিআই ক্রুড অয়েলের দাম হু হু করে বাড়ছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৬.৩ ডলার ছাড়িয়েছে এবং ডব্লুটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৬.৯২ ডলারে পৌঁছেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের এই ক্ষমতার লড়াই চললে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত ছুঁতে পারে। কেবল গত বৃহস্পতিবারেই একদিনে তেলের দাম ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরণের মুদ্রাস্ফীতির সংকেত দিচ্ছে।
ভারতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ও অশনি সংকেত
ভারত তার জ্বালানি চাহিদার সিংহভাগ তেল এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই আমদানি করে থাকে। এই জলপথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সরবরাহে বড় ধরণের ঘাটতি দেখা দেবে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এতে পরিবহন খরচ বাড়ার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে।
- উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম ২০০ ডলারের গণ্ডি ছোঁয়ার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
- ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
