অনলাইন গেমিংয়ে বড় বদল! আজ থেকেই দেশজুড়ে চালু হলো নতুন নিয়ম, না জানলে হতে পারে জেল-জরিমানা

সারাদেশে আজ থেকে কার্যকর হয়েছে ‘প্রমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অব অনলাইন গেমিং রুলস ২০২৬’। অনলাইন গেমিং খাতকে একটি সুশৃঙ্খল আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতেই কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত। নতুন এই নীতিমালার ফলে অনলাইন গেমিংয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ডিজিটাল মাধ্যমে গেমারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে থাকা প্রাদেশিক আইনগুলোকে সরিয়ে একটি কেন্দ্রীয় শক্তিশালী আইনি ভিত্তি তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
তিন ভাগে ভাগ হলো গেমিং জগত
নতুন নিয়ম অনুযায়ী অনলাইন গেমিং শিল্পকে তিনটি সুনির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমত, ‘ই-স্পোর্টস’ যেখানে পেশাদার এবং দক্ষতা নির্ভর গেমগুলোকে রাখা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ‘অনলাইন সোশ্যাল গেমস’ যার আওতায় থাকবে বিনোদনমূলক ও শিক্ষামূলক গেমগুলো। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে তৃতীয় ক্যাটাগরিতে; যেখানে অর্থ বা বাজি ধরে খেলা হয় এমন ‘অনলাইন মানি গেমস’ দেশের অভ্যন্তরে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো গেম কোন ক্যাটাগরিতে পড়বে, তা নির্ধারণ করার পূর্ণ ক্ষমতা এখন থেকে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে।
কঠোর শাস্তি ও ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা
নতুন আইন অমান্য করলে জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। যদি কোনো প্ল্যাটফর্ম বা ব্যক্তি পেইড গেমিং সংক্রান্ত আইন বারবার অমান্য করেন, তবে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি এই ধরনের নিষিদ্ধ গেমের বিজ্ঞাপন প্রচার করলে ৫ বছরের জেল ও ২ কোটি টাকা জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে। এছাড়া গেমারদের সুরক্ষায় বয়স যাচাইকরণ (এজ ভেরিফিকেশন), সময়সীমা নিয়ন্ত্রণ এবং অভিভাবকদের তদারকির মতো বিশেষ ফিচার রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এক ঝলকে
গেমারদের আসক্তি কমাতে সময়সীমা নির্ধারণ ও বয়স যাচাইকরণের মতো কঠোর নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আজ থেকে কার্যকর হওয়া কেন্দ্রীয় আইনের মাধ্যমে বাজি ধরা বা অর্থ লেনদেনের অনলাইন গেম দেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
গেমগুলোকে ই-স্পোর্টস, সোশ্যাল এবং মানি গেমস—এই তিনটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
আইন অমান্য করলে ১ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং ৩ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
