ছুটির আগের দিনেই মর্মান্তিক পরিণতি! হকি বলের আঘাতে প্রাণ গেল ১৩ বছরের ছাত্রীর, কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবার

গোয়ার সেন্ট অ্যান্থনি হাই স্কুলের খেলার মাঠে এক অভাবনীয় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী রুইশা খারসেল। গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হওয়ার মাত্র এক দিন আগে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নবম শ্রেণীর এই শিক্ষার্থী স্কুলের নিয়মিত প্রশিক্ষণ সেশনের সময় মাথায় হকি বলের জোরালো আঘাত পায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বলের আঘাতে রুইশা তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে লুটিয়ে পড়লে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় হকিতে হাতেখড়ি
রুইশার হকি খেলার পেছনে মূল অনুপ্রেরণা ছিল তার বড় ভাই সুরজ খারসেল। সুরজ গত মাসেই বিহারে অনুষ্ঠিত সাব-জুনিয়র ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে গোয়া দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। ভাইয়ের হকি স্টিক ব্যবহার করেই খেলায় দক্ষ হয়ে উঠছিল রুইশা। আগামী শিক্ষাবর্ষের প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিতেই সে সেদিন মাঠে অনুশীলনে নেমেছিল। অনুশীলনের শেষ ১০ মিনিটের মাথায় এই দুর্ঘটনা তার পরিবারের সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
নিরাপত্তা ও ত্বরিত চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার পর জরুরি অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় একটি বেসরকারি গাড়িতে করে রুইশাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। ক্রীড়াক্ষেত্রে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার অভাব এবং অ্যাম্বুলেন্সের এই দেরি নিয়ে স্থানীয় মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এবং আঘাতের তীব্রতা জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এই ঘটনা স্কুল পর্যায়ের খেলাধুলায় শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং হেলমেট বা গার্ড ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে এনেছে।
এক ঝলকে
- গোয়ার সেন্ট অ্যান্থনি হাই স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী রুইশা খারসেল প্রশিক্ষণের সময় হকি বলের আঘাতে মারা গেছে।
- গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হওয়ার ঠিক এক দিন আগে স্কুলের মাঠেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
- রুইশার ভাই সুরজ গোয়া সাব-জুনিয়র হকি দলের অধিনায়ক, যার অনুপ্রেরণায় সে হকি খেলা শুরু করেছিল।
- পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
