জব্বলপুরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! মাঝনদীতে উলটে গেল ২০ বছরের পুরনো ক্রুজ, ৯ জনের সলিল সমাধি—নিখোঁজ বহু

মধ্যপ্রদেশের জবলপুর জেলার বরগী বাঁধে বৃহস্পতিবার বিকেলে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পর্যটকবাহী ক্রুজ ডুবে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়া ও প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে পর্যটন দপ্তরের ২০ বছরের পুরোনো ক্রুজটি মাঝনদীতে তলিয়ে যায়। ঘটনার সময় ক্রুজটিতে চালকসহ প্রায় ৩৭ জন আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় শ্রমিকদের প্রচেষ্টায় ২২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও অন্তত ৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নিরাপত্তা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা পর্যটকদের দাবি, কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির কারণেই এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। তাদের অভিযোগ, ক্রুজে ওঠার পর কোনো যাত্রীকেই লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়নি। ঝোড়ো আবহাওয়া শুরু হওয়ার পর যখন জল বাড়তে থাকে, তখন পর্যটকরা নিজ উদ্যোগে স্টোর রুম ভেঙে লাইফ জ্যাকেট বের করার চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চালককে দিক পরিবর্তনের অনুরোধ করা হলেও তিনি তাতে গুরুত্ব দেননি, যার ফলে ক্রুজটি ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায়।
উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান পরিস্থিতি
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই এনডিআরএফ, এসডিআরএফ এবং সেনাবাহিনীর একটি দল উদ্ধার কাজে নামে। স্থানীয় শ্রমিকরা সাহসিকতার সাথে জলতে ঝাঁপিয়ে পড়ে অনেককে উদ্ধার করলেও অন্ধকারের কারণে কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। জবলপুরের খামারিয়া ফায়ার ফ্যাক্টরির এক কর্মীর পরিবারের ১৫ জন সদস্য এই দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে গ্যাস কাটার ব্যবহার করে ডুবে যাওয়া ক্রুজের অংশ কেটে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
এক ঝলকে
এনডিআরএফ ও সেনাবাহিনী নিখোঁজদের উদ্ধারে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
মধ্যপ্রদেশের বরগী বাঁধে পর্যটকবাহী ক্রুজ ডুবে ৯ জনের মৃত্যু ও ৮ জন নিখোঁজ।
ঝোড়ো আবহাওয়ার কবলে পড়ে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
লাইফ জ্যাকেট না থাকা এবং নিরাপত্তার অভাব নিয়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পর্যটকদের।
