অনাথ শরণার্থী থেকে কোটিপতি: কেন্টে এক বৃদ্ধার শেষ উইলে চমকে গেল বিশ্ব

অনাথ শরণার্থী থেকে কোটিপতি: কেন্টে এক বৃদ্ধার শেষ উইলে চমকে গেল বিশ্ব

ইংল্যান্ডের কেন্ট কাউন্টির হুইটস্টেবল এলাকায় ৯৮ বছর বয়সে মারা যান হিল্ডা লেভি। জরাজীর্ণ বাড়ি আর অযত্নে পড়ে থাকা বাগান দেখে প্রতিবেশীরা তাকে স্রেফ একজন নিঃস্ব ও অসহায় বৃদ্ধা হিসেবেই জানতেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর যখন উইল বা অছিয়তনামার বয়ান সামনে আসে, তখন বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। যে বৃদ্ধা আপাতদৃষ্টিতে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন কাটিয়েছেন, তিনি আসলে ১৬ কোটি টাকারও বেশি (১.৪ মিলিয়ন পাউন্ড) সম্পদের মালিক ছিলেন।

অভাবের আড়ালে অঢেল সম্পদ

হিল্ডার জীবনযাত্রা ছিল অত্যন্ত সাধারণ এবং নিভৃত। ১৯৭০-এর দশকের পুরনো একটি সেমি-ডিট্যাচড বাড়িতে বাস করতেন তিনি, যার অবস্থা ছিল শোচনীয়। অথচ তার শেষ ইচ্ছাপত্রে দেখা যায়, তিনি সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা বন্ধু-বান্ধব ও ক্যান্টারবেরি হাসপাতালের নামে লিখে দিয়ে গেছেন। এছাড়া লন্ডনের মুরফিল্ডস আই হসপিটালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা সংস্থায় দান করেছেন আরও প্রায় তিন কোটি টাকা। একজন উদ্বাস্তু হিসেবে জীবন শুরু করা নারীর এমন দানশীলতা এখন ওই অঞ্চলের প্রধান আলোচনার বিষয়।

যেভাবে এল এই বিপুল অর্থ

অনুসন্ধানে জানা যায়, হিল্ডা ১৯৩০-এর দশকে জার্মানি থেকে রিফিউজি হিসেবে ইংল্যান্ডে এসেছিলেন। নাৎসিদের হাতে পরিবারের সবাইকে হারানোর পর তিনি ছিলেন পুরোপুরি অনাথ। পরে এলেন জেফরি নামে এক নারী তাকে দত্তক নেন। তার এই বিপুল সম্পদের উৎস ছিল মূলত আমেরিকায় বসবাসরত এক কাকার উত্তরাধিকার। সেই আত্মীয় তার ৩০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সম্পত্তি নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছিলেন, যার একটি বড় অংশ পেয়েছিলেন হিল্ডা। সারাজীবন সেই অর্থের কোনো জাঁকজমক প্রদর্শন না করে তিনি তা জনহিতকর কাজেই বিলিয়ে দিয়েছেন।

এক ঝলকে

  • জার্মান উদ্বাস্তু থেকে কোটিপতি হওয়া হিল্ডা লেভি ৯৮ বছর বয়সে মারা গেছেন।
  • জীর্ণ বাড়িতে থাকলেও তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ কোটি টাকা।
  • সম্পত্তির বড় অংশ তিনি বিভিন্ন হাসপাতাল ও দাতব্য সংস্থায় দান করে গেছেন।
  • আমেরিকায় থাকা এক কাকার উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি এই বিপুল অর্থের মালিক হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *