‘অন্ধকারে স্ট্রং রুমে ঢুকছে গাড়ি!’ গণনার সকালে বিজেপি-র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার ঠিক আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ সপ্তমে চড়েছে। ভোট গণনার আগের রাতে বিভিন্ন স্ট্রং রুমে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটানোর গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ইভিএমের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের রায় রক্ষা করতে তৃণমূল কর্মীদের রাত জেগে স্ট্রং রুম পাহারা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও সন্দেহজনক গতিবিধি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, হুগলির শ্রীরামপুর, নদিয়ার কৃষ্ণনগর, বর্ধমানের আউশগ্রাম এবং কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণনাকেন্দ্রগুলোতে ধাপে ধাপে লোডশেডিং করা হচ্ছে। তাঁর আশঙ্কা, বিদ্যুৎহীন অবস্থায় সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো অকার্যকর করে স্ট্রং রুমের আশেপাশে সন্দেহজনক যানবাহন ঢোকানো হচ্ছে। কর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “আমি যেমন পাহারা দেওয়ার জন্য সারারাত জেগে আছি, আপনারাও জেগে থেকে জনগণের ভোট রক্ষা করুন।” সন্দেহজনক কিছু দেখলেই তৎক্ষণাৎ অভিযোগ দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
গণতন্ত্রের রেকর্ড ও নজিরবিহীন লড়াই
এবারের নির্বাচনে রাজ্যে ৯২ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে, যা স্বাধীনতার পর এক অনন্য রেকর্ড। আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে ২৯৩টি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ শুরু হবে। বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর লড়াই নিয়ে দেশজুড়ে কৌতূহল তুঙ্গে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস হ্যাটট্রিক প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী, অন্যদিকে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পরিবর্তনের দাবি করছে। বাংলার পাশাপাশি আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির ফলাফলও আজ ঘোষিত হতে চলায় একে ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের বড় মহড়া হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
