অবশেষে জয়! ৩৬ দিন পর যন্তর মন্তরে আন্দোলন প্রত্যাহার ‘ককরোচ’ জনতা পার্টির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অবসান ঘটল ঐতিহাসিক আন্দোলনের। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলন প্রত্যাহারের ঐতিহাসিক ঘোষণা করল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)।
আজ, শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং-এর সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকে বসেছিল ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিদল। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই বৈঠকের ঠিক আগেই পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকে যোগ দেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা।
নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজধানীর যন্তর মন্তর চত্বরে টানা ৩৬ দিন ধরে এই আন্দোলন তীব্র রূপ ধারণ করেছিল। জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্মের এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ। দেশজুড়ে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টি এই আন্দোলনে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। তাদের এই ন্যায়সঙ্গত দাবির পাশে এসে দাঁড়ান বিরোধী রাজনৈতিক দলের বহু নেতানেত্রী। এমনকি বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকও ককরোচ জনতা পার্টির এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে যোগ দেন।
সরকারের পক্ষ থেকে মেনে নেওয়া প্রধান তিনটি দাবি:
- কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
- দিল্লি সহ সারা দেশে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার।
- নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মানসিক অবসাদে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী আত্মঘাতী হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকটি পরিবারকে এক কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান।
বিজেপির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের এই মূল তিনটি দাবিই নিঃশর্তভাবে মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের পরই ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে যন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে যন্তর মন্তর চত্বরে অবস্থানরত সমস্ত আন্দোলনকারীকে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
