অবশেষে জুতো পরলেন আঙুরবালা এবং ২৮ বছরের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর পূর্ণ হলো সেই কঠিন প্রতিজ্ঞা

রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তন কেবল রাজনীতির অলিন্দেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা ছুঁয়ে গিয়েছে সাধারণ মানুষের গভীর আবেগকেও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর বাসিন্দা ৭২ বছরের বৃদ্ধা আঙুরবালা সাউ দীর্ঘ ২৮ বছর পর মঙ্গলবার ফের পায়ে চটি গলালেন। ১৯৯৮ সালে বাম আমলের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত তিনি খালি পায়েই থাকবেন। সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল এক নজিরবিহীন আবেগঘন পরিবেশে।
অত্যাচারের সেই কালো দিন ও কঠিন শপথ
বাসন্তীর আঙুরবালা সাউ যখন বিজেপির টিকিটে পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী হয়েছিলেন, তখন অভিযোগ ওঠে যে তৎকালীন শাসকদল সিপিএমের হাতে তিনি ভয়াবহ নিগ্রহের শিকার হন। নিগৃহীতা আঙুরবালার দাবি অনুযায়ী, তাঁকে বিবস্ত্র করে তাঁর পায়ের চটি পর্যন্ত খুলে নিয়ে অত্যাচার করা হয়েছিল। সেই চরম অপমানের পর থেকেই তিনি জুতো পরা ত্যাগ করেন। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা ছিল, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় না এলে তিনি আর কখনও পায়ে জুতো দেবেন না। টানা ২৮ বছর গ্রীষ্মের তপ্ত রাস্তা থেকে শুরু করে বর্ষার কাদা—সবই তিনি পার করেছেন খালি পায়ে।
প্রতিশ্রুতি পূরণ ও আবেগঘন মুহূর্ত
মঙ্গলবার রাজ্যে বিজেপির জয় নিশ্চিত হতেই আরএসএস (RSS) কর্মী প্রতিশ্রুতি দেবনাথ নতুন এক জোড়া জুতো নিয়ে হাজির হন বৃদ্ধার কাছে। বাহাত্তর বছর বয়সে এসে নিজের সেই কঠিন প্রতিজ্ঞা ভাঙার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন আঙুরবালা। তাঁর চোখে তখন ছিল হারানো সম্মান ফিরে পাওয়ার তৃপ্তি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আঙুরবালার এই দীর্ঘ লড়াই কেবল ব্যক্তিগত জেদ নয়, বরং তা বাংলার নিচুতলার রাজনীতির এক দীর্ঘকালীন সংঘাতের প্রতীক। এই ঘটনাটি রাজ্যে পরিবর্তনের আবহে এক অনন্য মানবিক উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।
