চেন্নাইয়ে বিজয়ের বিজয় উৎসব! ৭ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন থলপতি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী থেকেছে দেশ। তবে নবান্নের নতুন শাসক কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা এখনও তুঙ্গে থাকলেও দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুতে ছবিটা এখন অনেক বেশি পরিষ্কার। রাজ্য রাজনীতির দীর্ঘদিনের দ্বিমেরু প্রথা ভেঙে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছেন ‘তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম’ (TVK) প্রধান তথা জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয়। এবার সেই সাফল্যের চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে থলপতি বিজয়ের শপথগ্রহণের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হলো। আগামী ৭ মে চেন্নাইয়ের বুকে এক রাজকীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।
নেহরু স্টেডিয়ামে মেগা শপথের প্রস্তুতি
চেন্নাই সেন্ট্রালের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। বিজয়ের এই জয় কেবল তাঁর দলের সাফল্য নয়, বরং তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র বাইরে এক শক্তিশালী বিকল্পের উত্থান। নেহরু স্টেডিয়ামের এই অনুষ্ঠানে বিজয়ের অনুরাগী এবং দলের কর্মী-সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে প্রশাসন ইতিমধ্যেই কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে। কেবল তামিলনাড়ু নয়, প্রতিবেশী রাজ্যগুলো থেকেও বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজভবনে সাক্ষাৎ ও ক্ষমতার পালাবদল
সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাল, বুধবার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করবেন বিজয়। এই সাক্ষাতের মাধ্যমেই তিনি তাঁর দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দেবেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য নিজের দাবি পেশ করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা প্রমাণ করে যে তিনি কেবল রুপোলি পর্দার নায়ক নন, বরং রাজনৈতিক রণকৌশলেও যথেষ্ট পারদর্শী। বুধবারের এই বৈঠকের পরই মন্ত্রিপরিষদের তালিকা এবং শপথগ্রহণ সংক্রান্ত বিস্তারিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণী রাজনীতিতে নয়া যুগের সূচনা
থলপতি বিজয়ের এই শপথগ্রহণ তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র আধিপত্য রাজ্যের ক্ষমতায় ছিল, বিজয়ের এই উত্থান তাকে কার্যত ধূলিসাৎ করে দিল। তরুণ প্রজন্মের ভোটব্যাঙ্ক এবং আমজনতার আবেগকে হাতিয়ার করে বিজয় যে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন, তার ফলশ্রুতিতেই আজ তিনি মসনদে বসতে চলেছেন। প্রশাসনিক কাজে বিজয়ের অনভিজ্ঞতা নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুললেও, সাধারণ মানুষ তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং ‘মানুষের কাজ’ করার অঙ্গীকারের ওপর আস্থা রেখেছেন। এখন দেখার, রুপোলি পর্দার জাদু ক্ষমতার অলিন্দে কতটা সফলভাবে কাজ করে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।
