অভিষেকের উপর হামলায় দলেরই একাংশের নীরবতা, তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ – এবেলা

অভিষেকের উপর হামলায় দলেরই একাংশের নীরবতা, তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার পর এবার দলের অন্দরের ক্ষোভ ও ফাটল প্রকাশ্যে চলে এল। সোনারপুরে আক্রান্ত হওয়ার পর যেখানে জাতীয় স্তরের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন, সেখানে তৃণমূলের নিজস্ব সাংসদ, বিধায়ক এবং শীর্ষ নেতাদের একাংশের নীরবতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। দলের এই কঠিন সময়ে নেতাদের দূরত্ব বজায় রাখার মনোভাবকে সামাজিক মাধ্যমে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেছেন তিনি।

অভ্যন্তরীণ বিরোধের নেপথ্য কারণ

তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের পুরনো বনাম নতুন শিবিরের ক্ষমতার লড়াই এবং সুবিধাবাদী রাজনীতির প্রভাবই এই ক্ষোভের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, যাঁরা ক্ষমতার সুসময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দাদা’, ‘অনুগামী’ বা ‘বস’ বলে পরিচয় দিতেন এবং ছবি-সেলফিতে মেতে থাকতেন, সংকটের মুহূর্তে তাঁদের বড় অংশকেই পাশে দেখা যাচ্ছে না। সামাজিক মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্যে দলীয় সরকার থাকলে এই সমস্ত নেতাদের আচরণ অন্যরকম হতো। ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে নিজের কাজ গুছিয়ে নেওয়ার পর এখন তাঁরা গা ঢাকা দিয়েছেন, যা দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও আনুগত্যের অভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও চক্রান্তের অভিযোগ

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আক্রান্ত হওয়ার পর কলকাতার দুটি নামী বেসরকারি হাসপাতাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভর্তি না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একে বিজেপির ভয় এবং গেরুয়া শিবিরের চক্রান্ত বলে তিনি দাবি করেছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনো যোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য। তবে ঘটনার পর ইতিমধ্যেই পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। এই হামলার ঘটনার চেয়েও এখন রাজনৈতিক মহলে বেশি চর্চা হচ্ছে তৃণমূলের অন্দরের ফাটল নিয়ে, যা আগামী দিনে শাসক দলের সাংগঠনিক ঐক্য ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের প্রশ্নে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *