অভিষেকের কনভয়ে হামলা: “আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছে”, গর্জে উঠলেন সাংসদ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে হামলা, উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি!
শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে হামলার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে তাঁর গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইট, পাথর ও ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আহত হয়েছেন এবং তিনি তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ তুলেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করা হয়েছে এবং একে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
হামলার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে, তিনি হেলমেট পরিহিত অবস্থায় থাকলেও ইটের আঘাতে তাঁর চোখে চোট লেগেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে উচ্চপর্যায়ের মদতেই এই ঘটনা ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন। এদিকে ডেরেক ও’ব্রায়েন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাহারের কারণ জানতে চেয়েছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধী এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে অভিহিত করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচনের ফল ঘোষণার এক মাসের মধ্যেই বিজেপির মদতে এ ধরনের প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি শুরু হয়েছে, যার লক্ষ্য বিরোধী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করা। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এই ঘটনার গভীরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এই হামলার জেরে তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টি আদালত এবং রাজ্যপাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এই সহিংস ঘটনা রাজনৈতিক মহলে বড় ধরণের প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে এবং আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির অস্থিরতা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
