ভূমধ্যসাগরে ভারতের ব্রহ্মোস কাঁপন, ঘুম উড়েছে তুরস্কের! – এবেলা

ভূমধ্যসাগরে ভারতের ব্রহ্মোস কাঁপন, ঘুম উড়েছে তুরস্কের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে কূটনৈতিক ও সামরিক সমীকরণ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। ভারত, সাইপ্রাস ও গ্রিসের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা ঘিরে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তুরস্কে। ভারতের তৈরি অত্যাধুনিক সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্মোস’ এবং কামিকাজে ড্রোন সাইপ্রাস অথবা গ্রিসের হাতে পৌঁছতে পারে, এমন জল্পনা সামনে আসতেই তুরস্কের কৌশলগত মহলে ব্যাপক আলোড়ন শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে ভারত যেভাবে অন্যতম প্রধান অস্ত্র রফতানিকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, এই ঘটনা তারই একটি বড় প্রমাণ।

কৌশলগত সফর এবং সামরিক রোডম্যাপ

সম্প্রতি সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডৌলিডেস ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। এর কিছুদিন পরেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সাইপ্রাস সফরে যান। এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সফরের পর ভারত ও সাইপ্রাসের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির খবর প্রকাশ্যে আসে। একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাইপ্রাস ভারতের কাছ থেকে শক্তিশালী ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি অত্যাধুনিক কামিকাজে ড্রোন কেনার ব্যাপারে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে।

সামরিক ভারসাম্য পরিবর্তনের আশঙ্কা ও তুরস্কের উদ্বেগ

দীর্ঘদিন ধরে উত্তর সাইপ্রাসে তুর্কি সেনার উপস্থিতি এবং দ্বীপটির রাজনৈতিক বিভাজনকে কেন্দ্র করে তুরস্কের সঙ্গে সাইপ্রাসের বিরোধ চলছে। এর পাশাপাশি গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যেও সমুদ্রসীমা, জ্বালানি অনুসন্ধান এবং আঞ্চলিক আধিপত্য নিয়ে বহু দশকের পুরনো ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইপ্রাস বা গ্রিস যদি ভারতের এই দূরপাল্লার ও নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র পেয়ে যায়, তবে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক সামরিক ভারসাম্য সম্পূর্ণ বদলে যাবে। তুরস্কের কৌশলবিদদের একাংশের মতে, সাইপ্রাস আসলে একটি উছিলা মাত্র, ভারতের আসল লক্ষ্য হলো গ্রিসের প্রতিরক্ষা শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ফিলিপিন্স-সহ একাধিক দেশের কাছে সফলভাবে ব্রহ্মোস রফতানি করে ভারত বিশ্ব বাজারে নিজেদের সামরিক প্রযুক্তির শক্তিমত্তা প্রমাণ করেছে। এবার ইউরোপীয় অঞ্চলেও দিল্লির এই কৌশলগত প্রভাব বিস্তার ও অস্ত্র রফতানির আগ্রাসী নীতি তুরস্কের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ওই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন মেরুকরণের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *