অমিত শাহের মেগা চাল, বাংলায় ধূলিসাৎ মমতা ম্যাজিক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পালাবদল ঘটে গেল। দীর্ঘ বারো বছরের লড়াই শেষে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অশ্বমেধের ঘোড়া থামিয়ে দিল বিজেপির রণকৌশল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সুনিপুণ পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী ‘চক্রব্যূহে’ কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছে জোড়াফুল শিবির। ২০১৬ সালে মাত্র ৩টি আসন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালে ২০৭টি আসনে পৌঁছে বিজেপির এই উত্থান ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তার কড়াকড়ি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা
এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের ‘পেশিশক্তি’ রুখতে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ছিল অত্যন্ত কঠোর। রাজ্যের প্রতিটি কোণায় প্রায় আড়াই লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছিল। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশের দুঁদে পুলিশ অফিসার অজয় পাল শর্মার মতো পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি বুথ দখল ও ভোটারদের ভয় দেখানোর সংস্কৃতিতে বড় আঘাত হেনেছে। ভোটারদের মনে সাহস জোগাতে অমিত শাহ নিজে টানা ১৫ দিন রাজ্যে অবস্থান করেন এবং বুথ স্তরের কর্মীদের চাঙ্গা করেন। সকাল ১১টার মধ্যে ১০০ শতাংশ ভোট নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য তিনি নির্ধারণ করেছিলেন, তা ফলপ্রসূ হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন ও মেরুকরণের রাজনীতি
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ অবৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড় ফাটল ধরিয়েছে। এর পাশাপাশি অমিত শাহের তীক্ষ্ণ প্রচার—যেমন অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং গুন্ডারাজ খতম করার হুঁশিয়ারি—সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২৪টি জনসভা ও রোড-শো জনসমর্থনকে বিজেপির পক্ষে একীভূত করতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি
এই জয়ের ফলে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক সমীকরণে আমূল পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের বাম ও তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি এখন রাজ্যে নিজেদের আদর্শ বাস্তবায়নের পথে এগোবে। পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট চুরির অভিযোগ তুললেও, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি—জনগণের নাড়ি বুঝতে পারা এবং আধুনিক নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার কাছেই হার মানতে হয়েছে ঘাসফুল শিবিরকে। এই ফলাফল কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, বরং গোটা দেশের রাজনীতিতে বিজেপি তথা মোদী-শাহ জুটির আধিপত্যকে আরও সুসংহত করল।
