অরূপের চাল ভেস্তে দিলেন মমতা, আগাম মাস্টারস্ট্রোকে রক্ষা পেল তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা তীব্র রাজনৈতিক ভাঙন ও মুষল পর্বের মাঝেই এবার দলের তহবিল ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে এক চরম নাটকীয় মোড় সামনে এল। তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে বড়সড় বেকায়দায় ফেলতে খোদ দলেরই নেতা অরূপ বিশ্বাস তৃণমূলের অফিশিয়াল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা লেনদেন বন্ধ করার জন্য ব্যাঙ্কে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু মমতা ব্যানার্জির এক সুদূরপ্রসারী ও আগাম ‘মাস্টারস্ট্রোক’-এর জেরে অরূপ বিশ্বাসের সেই পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভেস্তে গেল এবং রক্ষা পেল দলের কোটি কোটি টাকার তহবিল।
নিজেকে কোষাধ্যক্ষ দাবি করে অরূপ বিশ্বাসের চাঞ্চল্যকর চিঠি
ওয়াকিবহাল মহলের স্পষ্ট দাবি, মূলত মমতা ব্যানার্জিকে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক বিপাকে ফেলতেই এই গোপন চাল চেলেছিলেন অরূপ বিশ্বাস।
ঘটনার বিবরণী নিচে দেওয়া হলো:
- চিঠি প্রেরণের তারিখ: গত ১২ জুন নিজেকে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিশিয়াল কোষাধ্যক্ষ (Treasurer) দাবি করে ব্যাঙ্কের কাছে একটি লিখিত চিঠি পাঠান অরূপ বিশ্বাস।
- চিঠির মূল বক্তব্য: দলে চলমান সংসদীয় ভাঙন ও চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার দোহাই দিয়ে দলীয় তহবিলের সুরক্ষার স্বার্থে তৃণমূলের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অবিলম্বে ফ্রিজ বা সাময়িকভাবে বন্ধ করার আবেদন জানান তিনি।
৫ জুনের মাস্টারস্ট্রোক, ব্যাঙ্কে ধাক্কা খেলেন অরূপ
অরূপ বিশ্বাস চিঠি দিলেও শেষ পর্যন্ত ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাঁর সেই আবেদন মানতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। কারণ হিসেবে জানা গিয়েছে, অরূপ বিশ্বাসের গতিবিধি ও রাজনৈতিক অবস্থান অনেক আগে থেকেই সন্দেহজনক মনে হয়েছিল তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির।
মমতা ব্যানার্জির নেওয়া আগাম পদক্ষেপগুলি ছিল অত্যন্ত নিখুঁত:
- আগাম কোষাধ্যক্ষ বদল: অরূপ বিশ্বাসের চিঠি পাঠানোর অনেক আগেই, অর্থাৎ গত ৫ জুনই তাঁকে কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে সরিয়ে শুভাশিস চক্রবর্তীকে দলের নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি।
- ব্যাঙ্ককে অবহিতকরণ: ৫ জুনের সেই সাংগঠনিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ও নতুন কোষাধ্যক্ষের নাম অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকেও অফিশিয়ালি জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এর ফলে ১২ জুন যখন অরূপ বিশ্বাস নিজেকে কোষাধ্যক্ষ দাবি করে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের আবেদন জানান, তখন আইনি ও প্রশাসনিক নথির ভিত্তিতে ব্যাঙ্ক তাঁর দাবি সরাসরি খারিজ করে দেয়। কারণ ব্যাঙ্কের রেকর্ডে তখন অরূপ আর দলের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন না। দলের চরম সংকটের দিনেও মমতা ব্যানার্জির এই আগাম ও তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক বুদ্ধির জোরেই তৃণমূলের তহবিল বড়সড় বিপর্যয় থেকে বেঁচে গেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
