অল্প বয়সেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে, হার্ট ব্লকেজের এই লক্ষণগুলো অবহেলা করলেই বিপদ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বর্তমানে হৃদরোগ কেবল বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। হৃদযন্ত্রের ধমনীতে ফ্যাট, কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য পদার্থের স্তূপ জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে তাকে হার্ট ব্লকেজ বা ‘অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস’ বলা হয়। এই সমস্যাটি ধীরে ধীরে প্রকট হয় বলে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেই একে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে ভুল করেন। চিকিৎসকদের মতে, ব্লকেজের কারণে হৃদযন্ত্রে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছাতে না পারায় হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকি তৈরি হয়।
সতর্ক সংকেত ও শারীরিক পরিবর্তন
হার্ট ব্লকেজের লক্ষণগুলো ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠা বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে ব্লকেজ বাড়তে থাকলে বুকে ব্যথা, চাপ অনুভব করা বা জ্বালাপোড়া হওয়ার মতো উপসর্গ প্রকট হয়, যা অনেক সময় বাম হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, মাথা ঘোরা এবং হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিক গতি হৃদরোগের বিশেষ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়।
ঝুঁকির কারণ ও জীবনযাত্রার প্রভাব
অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই এই রোগের প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার গ্রহণ, ধূমপান, মদ্যপান এবং শরীরচর্চার অভাব ধমনীতে চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং মানসিক দুশ্চিন্তাও এই সমস্যার জন্য দায়ী। পাশাপাশি পারিবারিক ইতিহাস বা জেনেটিক কারণেও অনেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন। সময়মতো জীবনযাত্রায় পরিবর্তন না আনলে এই ব্লকেজ প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিরোধের উপায়
হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা অনুসরণের পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা জরুরি। ধূমপান ও মদ্যপান সম্পূর্ণ বর্জন করে রক্তচাপ এবং সুগার নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম বা ধ্যানের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন। সামান্যতম উপসর্গ দেখা দিলেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জীবনের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
এক ঝলকে
- হৃদযন্ত্রের ধমনীতে কোলেস্টেরল ও চর্বি জমে রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়াকে হার্ট ব্লকেজ বলে।
- বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি এই রোগের প্রাথমিক ও প্রধান লক্ষণ।
- অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ ব্লকেজের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
- নিয়মিত শরীরচর্চা ও সুষম খাবারের মাধ্যমে হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
