‘আসাম থেকে মাছ পাঠাব, ৪ মে জয়ের পার্টি চাই!’ রায়দিঘিতে হিমন্তের মুখে ‘মেছো রাজনীতি’ – এবেলা

‘অসম থেকে মাছ পাঠাব, ৪ মে জয়ের পার্টি চাই!’ রায়দিঘিতে হিমন্তের মুখে ‘মেছো রাজনীতি’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’র আবেগ ছুঁতে এবার অভিনব কৌশল নিল বিজেপি। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে দলীয় প্রার্থী পলাশ রানার সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় এসে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ঘোষণা করেন, আগামী ৪ মে’র পর বিজয় উৎসবে আসাম থেকে মাছ পাঠাবেন তিনি। আমিষ খাবার নিয়ে তৃণমূলের তোলা অভিযোগ খণ্ডন করতেই হিমন্তের এই ‘মেছো রাজনীতি’ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তিনি স্পষ্ট করেন, নির্বাচনে জয়ের পর ভোজসভায় মাছের ঝোল ও মাংসের তরকারি পরিবেশন করা হবে।

মেরুকরণ ও অনুপ্রবেশ ইস্যু

নির্বাচনী মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে হিমন্ত অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের মদতে চলছে। তিনি দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করা হবে। সেই সঙ্গে ধর্মীয় মেরুকরণ উসকে দিয়ে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী কেবল ‘ইনশাল্লাহ’ ও ‘খোদা হাফেজ’ নিয়ে থাকেন, তিনি শ্রীরামকে ভুলে গিয়েছেন। প্রশাসনের সমালোচনা করে আসামের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে, ৪ মে’র পর পুলিশ ও গুন্ডাদের যোগসূত্র বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

হুমায়ুন কবীরকে আক্রমণ ও জয়ের দাবি

জনসভা থেকে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীরকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ গড়ার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, আসামে এমন হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতো। একইসঙ্গে বাংলার প্রথম দফার ভোটে বিজেপির ব্যাপক সাফল্যের দাবি তুলে তিনি জানান, এবার রাজ্যে ‘বিজেপি সুনামি’ শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিজেপি ইতিমধ্যেই বিপুল আসন নিশ্চিত করেছে এবং এবার লক্ষ্য ২০০-র গণ্ডি পার করা।

এক ঝলকে

  • রায়দিঘির সভায় ৪ মে-র পর আসাম থেকে মাছ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘বাঙালি আবেগ’ ধরার চেষ্টা হিমন্ত বিশ্বশর্মার।
  • বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়ন এবং রাজ্যে ‘গুন্ডারাজ’ খতম করার কড়া হুঁশিয়ারি।
  • তৃণমূলের বিরুদ্ধে তুষ্টিকরণ ও ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগে সরব আসামের মুখ্যমন্ত্রী।
  • বাংলায় এবার বিজেপির ‘ডবল সেঞ্চুরি’ বা ২০০-র বেশি আসন পাওয়ার ভবিষ্যৎবাণী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *