‘আইন তৈরির জন্য সরকারকে বাধ্য করা যায় না’, হেট স্পিচ মামলায় বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের!

‘আইন তৈরির জন্য সরকারকে বাধ্য করা যায় না’, হেট স্পিচ মামলায় বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের!

হেট স্পিচ নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নে সরকারকে বাধ্য করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ঘৃণা ছড়ানো বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন নির্দেশিকা ও সুরক্ষা চেয়ে করা একগুচ্ছ আবেদন সম্প্রতি খারিজ করে দিয়েছে দেশটির শীর্ষ আদালত। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় বর্তমান আইনি কাঠামোয় কোনো শূন্যতা নেই, বরং বিদ্যমান ফৌজদারি আইনেই শত্রুতা বৃদ্ধি ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ধারা রয়েছে।

বিচার বিভাগ ও আইনসভার ক্ষমতার ভারসাম্য

আদালত তার রায়ে স্পষ্ট করেছে যে, সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতার বিভাজন নীতি মেনে বিচার বিভাগ তার নিজস্ব গণ্ডির মধ্যে থেকেই কাজ করবে। কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য শাস্তি নির্ধারণ বা নতুন আইন প্রণয়ন করা সম্পূর্ণভাবে আইনসভার এখতিয়ার। আদালত কেবল আইনের ব্যাখ্যা দিতে পারে, কিন্তু সরকারকে নতুন আইন তৈরির জন্য নির্দেশ বা বাধ্যবাধকতা দিতে পারে না। এটি মূলত দেশের আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য বজায় রাখার প্রতিফলন।

বিদ্যমান আইনের প্রাসঙ্গিকতা ও প্রভাব

সুপ্রিম কোর্টের মতে, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা গুজব ছড়ানো সামাজিক ভ্রাতৃত্ব ও সাংবিধানিক শৃঙ্খলার ওপর সরাসরি আঘাত হানে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো আইনি ঘাটতি নেই যা বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপের দাবি রাখে। বিদ্যমান আইনগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। আদালত পরামর্শ দিয়েছে যে, পরিবর্তিত সামাজিক প্রেক্ষাপটের সাথে তাল মিলিয়ে কেন্দ্র প্রয়োজনে বর্তমান আইনি ব্যবস্থায় সংস্কারের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

এক ঝলকে

  • হেট স্পিচ বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট।
  • নতুন আইন তৈরির জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয় বলে রায় প্রদান।
  • বিদ্বেষমূলক বক্তব্য মোকাবিলায় বর্তমান ফৌজদারি আইনকেই যথেষ্ট বলে মনে করছে শীর্ষ আদালত।
  • আইন প্রণয়ন বা সংস্কারের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আইনসভা বা সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *