‘তৎক্ষণাৎ বাংলা ছাড়ুন অজয় পাল শর্মা!’ ভোটে ডরানোর অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার মহারণের ঠিক আগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আলোচিত আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পুলিশ অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাকারী এই আবেদনটিকে অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছেন। আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অজয় পাল শর্মা নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন এবং নির্বাচনের নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।
তৃণমূল ও বিজেপির রাজনৈতিক সংঘাত
অজয় পাল শর্মার এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে চরম বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির দাবি, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতেই এই দক্ষ অফিসারকে মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল ও সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখिलेश যাদবের অভিযোগ, বিজেপি নিজেদের এজেন্টদের পুলিশি পোশাকে নিয়োগ করে ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফালতা এলাকায় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাসভবনের সামনে অজয় পাল শর্মার উপস্থিতি এবং কঠোর হুঁশিয়ারি ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিতর্কের কারণ ও প্রভাব
২০১১ ব্যাচের আইপিএস অজয় পাল শর্মা উত্তরপ্রদেশে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত। দ্বিতীয় দফার ভোটে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো সংবেদনশীল এলাকায় তার কঠোর অবস্থান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করেছে। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাকে সরানোর এই প্রচেষ্টা মূলত নির্বাচনী কৌশলের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে। আদালতের রায় যদি তার বিপক্ষে যায়, তবে নির্বাচন কমিশনকে আইন-শৃঙ্খলারক্ষায় বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যদি তিনি বহাল থাকেন, তবে এই জেলায় তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এক ঝলকে
- আইপিএস অজয় পাল শর্মাকে পদ থেকে সরাতে সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদন জমা পড়েছে।
- তার বিরুদ্ধে ভোটার ও প্রার্থীদের ভয় দেখানোর এবং পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
- দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফালতায় তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে পুলিশি অভিযানকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত।
- উত্তরপ্রদেশের এই দাপুটে অফিসারের উপস্থিতি বাংলার ভোটে শাসক দলের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
