‘আগে লিস্ট দিন, একুশের অপরাধী হলে সোজা জেল!’ শোভনদেবকে কড়া শর্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা এবং ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানো নিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে কড়া শর্ত রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভোট পরবর্তী হিংসায় কেউ ঘরছাড়া বলে তাঁর জানা নেই। তবে বিরোধী দলনেতার দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি একটি সুনির্দিষ্ট শর্ত বেঁধে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলনেতা যেন ঘরছাড়াদের নামের একটি তালিকা রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের (ডিজিপি) কাছে জমা দেন। কিন্তু সেই তালিকায় থাকা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসায় যুক্ত থাকার অভিযোগ বা এফআইআর থাকে, তবে তাঁকে কোনোভাবেই ঘরে ফেরানো হবে না, বরং সরাসরি গ্রেফতার করা হবে।
রাজনৈতিক সংঘাত ও শর্তের জট
মূলত রাজ্যে সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর নতুন করে রাজনৈতিক হিংসা ও কর্মী-সমর্থকদের ঘরছাড়া হওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল বিরোধী শিবির। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিষয়টি উত্থাপন করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তারই জবাবে মুখ্যমন্ত্রী এই কড়া অবস্থান নেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দিতেই মুখ্যমন্ত্রী এই শর্ত আরোপ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ঘরছাড়াদের ফেরানোর মানবিক উদ্যোগের আড়ালে কোনো অপরাধী বা অতীতে হিংসায় জড়িত থাকা ব্যক্তিদের রেহাই দেওয়া হবে না।
আইন-শৃঙ্খলার ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মুখ্যমন্ত্রীর এই অনমনীয় অবস্থানের ফলে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। একদিকে যেমন প্রকৃত ঘরছাড়াদের তালিকা তৈরি করতে গিয়ে বিরোধী শিবিরকে আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখতে হবে, অন্যদিকে তেমনি ২০২১ সালের পুরনো মামলার জট নতুন করে খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে অপরাধীদের ঘরে ফেরার পথ বন্ধ হলেও, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে পড়ে বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সেই আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। একই সাথে, পুলিশ প্রশাসনের ওপর অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে।
