আজমেঢ়ে চার খুনের নেপথ্যে প্রথম স্ত্রী, শোকের অভিনয়েও শেষ রক্ষা হলো না – এবেলা

আজমেঢ়ে চার খুনের নেপথ্যে প্রথম স্ত্রী, শোকের অভিনয়েও শেষ রক্ষা হলো না – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজস্থানের আজমেঢ় জেলার বরাদা থানা এলাকায় ঘটে যাওয়া চার খুনের রোমহর্ষক ঘটনাটি শুধু অপরাধ জগতের নৃশংসতাকেই প্রকাশ করেনি, বরং অপরাধীর চরম ধূর্ততাকেও সামনে এনেছে। পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার পর পুলিশের চোখে ধুলো দিতে এবং গ্রামবাসীর সহানুভূতি পেতে খুনের মূল ষড়যন্ত্রকারী নারী যেভাবে শোকের অভিনয় করছিলেন, তা দেখে খোদ তদন্তকারী কর্মকর্তাদেরও চক্ষু চড়কগাছ। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনা মনে হলেও পুলিশের গভীর তদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত ঠান্ডা মাথার খুন।

পারিবারিক বিরোধ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান রাম সিং চৌধুরি, তাঁর মা পূসী দেবী, দ্বিতীয় স্ত্রী সুর্যগ্যান দেবী এবং পিসির মেয়ে মহিমা চৌধুরি। একই বাড়িতে রাম সিংয়ের দুই স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা থাকতেন। রাম সিংয়ের দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে প্রথম স্ত্রী সুনীতার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এই সম্পত্তি ও পারিবারিক কলহের জের ধরেই গত বুধবার রাতে বাড়ির ভেতর চরম অশান্তি শুরু হয়। বিবাদ রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। অভিযোগ, সুনীতা তাঁর মেয়ে সরিতা ও নাবালক ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরিবারের চার সদস্যের ওপর চড়াও হন এবং তাঁদের নৃশংসভাবে হত্যা করেন।

প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা ও দুর্ঘটনার নাটক

হত্যাকাণ্ডটি আড়াল করতে এবং আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে সুনীতা ও তাঁর সন্তানরা এক অভিনব পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে শ্রীরামপুরা গ্রামে জাতীয় সড়কের পাশে একটি স্করপিও এসইউভি গাড়ির ভেতর তিনটি দেহ রেখে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে পুরো ঘটনাটিকে একটি সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। অন্য একটি দেহ উদ্ধার করা হয় কাছের একটি মাঠ থেকে। গাড়িটি জ্বলতে দেখে গ্রামবাসীরা পুলিশে খবর দিলে সত্য উদঘাটিত হতে শুরু করে। আজমেঢ়ের এসপি হর্ষবর্ধন আগরওয়ালের মতে, দেহগুলোর আঘাতের চিহ্ন এবং ফরেনসিক পরীক্ষা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটি দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

ঘটনার পর পুলিশ যখন তদন্তে নামে, তখন প্রথম স্ত্রী সুনীতা গ্রামের অন্য নারীদের ভিড়ে বসে বুক চাপড়ে বিলাপ করছিলেন এবং জ্ঞান হারানোর ভান করছিলেন। প্রথমে তিনি পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে দাবি করেছিলেন যে, রাম সিং তাঁর মাকে বুকে ব্যথার কারণে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তাঁর এই কান্নাকাটি ও শোক প্রকাশ যে নিছকই অভিনয় ছিল, তা প্রমাণিত হয়। পারিবারিক অশান্তি ও প্রতিশোধের স্পৃহাই যে এই চারজন মানুষের করুণ মৃত্যুর মূল কারণ, তা এখন স্পষ্ট। ঘটনার মূল রূপকার সুনীতা এবং তাঁর সহযোগীদের এই নৃশংস অপরাধের জন্য আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *