আদালতের নির্দেশও খাটে নি তৃণমূলের আমলে, সরকার বদলাতেই হাসনাবাদে চলল শুভেন্দুর ‘যোগী স্টাইল’ বুলডোজার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তিলজলা এবং নৈহাটির পর এবার প্রশাসনের বুলডোজার চলল উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব এবং আইনি বাধা পেরিয়ে অবশেষে তালপুকুর এলাকায় একটি বিতর্কিত অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিগত দিনে যে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া থমকে ছিল, রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর করল নতুন প্রশাসন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও আদালতের নির্দেশ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসনাবাদের তালপুকুর এলাকায় গিয়াসউদ্দিন ঘরামি নামে এক ব্যক্তি জমি জবরদখল করে অবৈধভাবে বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। এই ঘটনার নেপথ্যে ছিল স্থানীয় দাপুটে তৃণমূল নেতা সাদ্দাম হোসেনের প্রত্যক্ষ মদত ও রাজনৈতিক প্রভাব। বেআইনি এই নির্মাণের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হলে আদালত সেটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। তবে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
বুলডোজার সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক তৎপরতা
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন এবং বিজেপি সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্যজুড়ে বেআইনি দখলদারির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের আদলে তৈরি এই ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ এবার দেখা গেল হাসনাবাদেও। হাইকোর্টের পুরনো নির্দেশকে কার্যকর করতে হাসনাবাদ থানার পুলিশ ও স্থানীয় ব্লকের বিডিও-র উপস্থিতিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। কোনো রকম বাধা ছাড়াই বুলডোজার দিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধ বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় প্রশাসন। এই অভিযানের ফলে একদিকে যেমন আদালতের রায় বাস্তবায়িত হলো, অন্যদিকে তেমনি এলাকায় বেআইনি জমি দখলের সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রভাবশালী মহলে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
এক ঝলকে
- উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের তালপুকুরে তৃণমূল নেতার মদতে তৈরি অবৈধ বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন।
- কলকাতা হাইকোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবে দীর্ঘদিন আটকে ছিল এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া।
- রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশে তৎপর হয় পুলিশ ও মহকুমা প্রশাসন।
- উত্তরপ্রদেশের আদলে বাংলায় শুরু হওয়া এই ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ বেআইনি দখলদারদের বিরুদ্ধে বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
