আমফানের ত্রাণের ২৫০ কোটি টাকা চুরির মারাত্মক অভিযোগ, আরও গভীর সংকটে অভিষেক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ঘূর্ণিঝড় আমফানের ত্রাণ বণ্টন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ২৫০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ দায়ের হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি। ২০২০ সালে রাজ্যে আঘাত হানা প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমফানের পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ সরকারি টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ তুলে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
পোর্টাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
অভিযোগকারী বিজেপি নেতার দাবি, আমফানের পর ক্ষতিগ্রস্তদের নতুন বাড়ি তৈরি এবং ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য ডিরেক্ট ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের (ডিবিটি) মাধ্যমে যথাক্রমে ২০,০০০ এবং ৫,০০০ টাকা করে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু ত্রাণ বণ্টনের জন্য তৈরি নির্দিষ্ট পোর্টালে ব্যাপক জালিয়াতি করা হয়। সম্পূর্ণ অক্ষত ও পাকা বাড়িকেও ক্ষতিগ্রস্ত দেখিয়ে টাকা তোলা হয়েছে। এমনকি একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে আলাদা আলাদা আবেদন মঞ্জুর করিয়ে কোটি কোটি টাকার সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে পুলিশি অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি তদন্তের সাঁড়াশি চাপে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক মামলায় আইনি চাপের মুখে রয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার সই জালিয়াতি এবং উস্কানিমূলক ভাষণ প্রদান সহ একাধিক মামলার তদন্ত চালাচ্ছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নির্দেশিকার পর সই জালিয়াতি মামলায় ভবানী ভবনে গিয়ে সিআইডির সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। এই আমফান মামলার সংযোজন তার আইনি জটিলতাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
কেন্দ্রীয় ও রাজ্য দুই তদন্তকারী সংস্থাই বর্তমানে অভিষেকের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া গতিশীল করেছে। সই জালিয়াতির মামলায় পুনরায় হাজিরার নির্দেশের পাশাপাশি প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং নির্বাচনী প্রচারণায় উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সিআইডি তাকে পরপর তলব করেছে। নতুন করে দায়ের হওয়া এই আড়াইশো কোটি টাকার ত্রাণ দুর্নীতির মামলাটি তদন্তের আওতায় এলে তার রাজনৈতিক ও আইনি সংকট আগামী দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
