আমফানের ত্রাণে মেগা দুর্নীতি! ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছিল, বিস্ফোরক ক্যাগ রিপোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ঘূর্ণিঝড় আমফানের ত্রাণ বিলি ও বণ্টন নিয়ে অতীতে কম জলঘোলা হয়নি। বিরোধী মহলের সেই দুর্নীতির অভিযোগকেই এবার সিলমোহর দিল দেশের সর্বোচ্চ অডিট সংস্থা— কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG)। আমফানের ত্রাণ বিতরণ ঘিরে চলা ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনেছে তারা। এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (অডিট-২) মনীশ কুমার।
ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা থেকে ত্রাণের টাকা— সর্বত্রই গরমিল
ক্যাগের তরফে জানানো হয়েছে, আমফানের ত্রাণ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মোট ছ’টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে। মনীশ কুমারের কথায়, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জেলার ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন ও রিপোর্ট তৈরির পদ্ধতিকে আরও পোক্ত করতে হবে, যাতে সঠিক পরিকল্পনা করা সম্ভব হয়। কারণ, তাদের অডিটে স্পষ্ট ধরা পড়েছে যে, বহু ক্ষেত্রেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অহেতুক ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছিল।
পাশাপাশি ত্রাণ সহায়তার জন্য একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন ফরম্যাট তৈরি এবং পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্যাগের তদন্তে উঠে এসেছে এক অদ্ভুত তথ্য— একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ত্রাণের টাকা আত্মসাৎ করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
নথি যাচাই ও কড়া নজরদারির সুপারিশ
ত্রাণের টাকা বা সামগ্রী ছাড়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক নথি যাচাই করা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে ক্যাগ। একইসঙ্গে ত্রাণসামগ্রী মজুত ও তা বিতরণের প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি আরও কঠোর করার সুপারিশও রাখা হয়েছে।
মনীশ কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম এবং সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনের ঘটনা সামনে এসেছে। তাই পুরো প্রক্রিয়ার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া উচিত। কেবল সরকারের মৌখিক আশ্বাসের ওপর ভরসা না রেখে, সুপারিশগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে তা আমরা সরেজমিনে গিয়ে খতিয়ে দেখব।”
পটভূমি: আমফানের ক্ষত ও বিতর্কের শুরু
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২০শে মে ঘণ্টায় ১৫৫ থেকে ১৮৫ কিমি বেগে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আছড়ে পড়েছিল বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’। যার জেরে সুন্দরবন ও বকখালির বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল।
এরপর রাজ্য প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়। তবে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছিল যে, শাসকদলের মদতে ত্রাণের টাকা ও সামগ্রী বিলিতে ব্যাপক অনিয়ম ও চুরি হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় দেখে প্রকৃত প্রাপকদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলে বিরোধীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা সেই গুঞ্জন ও অভিযোগকেই এবার সত্য প্রমাণ করে ক্যাগের এই রিপোর্ট নতুন করে রাজনৈতিক মহলে চরম শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
