‘আমার মেয়ে বাড়ি দখল করে আমাকে ফুটপাতে ফেলে দিয়েছে!’ ৭৬ বছরের বৃদ্ধার মাথা গোঁজার আকুতি জেলাশাসকের দরজায়- এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক বৃদ্ধা মায়ের করুণ আর্তি নাড়িয়ে দিল জেলা প্রশাসনকে। নিজের জন্মদাত্রী মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল খোদ মেয়ের বিরুদ্ধে। কানপুরের কलेक्ट्रট চত্বরে জনতা দর্শনের সময় ৭৬ বছর বয়সী বৃদ্ধা সরস্বতী দেবী যখন জেলা শাসক (ডিএম) জিতেন্দ্র প্রতাপ সিংয়ের সামনে হাতজোড় করে দাঁড়ালেন, তখন তাঁর চোখের জল বাঁধ মানছিল না। এই ঘটনাটি কেবল একটি পারিবারিক বিবাদ নয়, বরং বর্তমান সমাজে প্রবীণদের নিরাপত্তা ও পারিবারিক কাঠামোর ভাঙনকেও প্রকাশ্যে এনেছে।
জেলা শাসকের সামনে বৃদ্ধার কান্না ও অভিযোগ
সদর তহসিলের দূল গ্রাম থেকে আসা সরস্বতী দেবী জানান, তাঁর নিজের মেয়ে প্রেমশান্তি তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। বৃদ্ধার অভিযোগ, মেয়ে তাঁর ঘর দখল করে নিয়েছেন এবং তাঁকে ফুটপাতে থাকতে বাধ্য করেছেন। জেলা শাসকের সামনে ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এখন আমি কোথায় যাব?” বৃদ্ধার এই অসহায়তা দেখে সেখানে উপস্থিত সরকারি আধিকারিক ও কর্মীরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি গুরুত্ব সহকারে বিচার করে ডিএম অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রশাসনের সক্রিয়তা ও দীর্ঘ আলোচনা
জেলা শাসকের নির্দেশে জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও মহকুমা শাসক (সদর) অনুভব সিং দ্রুত রাজস্ব এবং পুলিশ টিম নিয়ে দূল গ্রামে পৌঁছান। সেখানে নায়েব তহসিলদার, গ্রাম প্রধান এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে একটি বিশেষ ‘পঞ্চায়েত’ বসে। মা ও মেয়েকে মুখোমুখি বসিয়ে চলে দীর্ঘ আলোচনা। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল বিষয়টির একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক সমাধান বের করা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মেয়ের আত্মপক্ষ সমর্থন
তদন্ত ও আলোচনার সময় উঠে আসে যে, মা ও মেয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। সরস্বতী দেবী তাঁর জীবনের বাকি দিনগুলো শান্তিতে কাটাতে চাইলেও মেয়ের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য চরমে পৌঁছেছিল। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মেয়ে প্রেমশান্তি তাঁর বয়ানে জানান, শ্বশুরবাড়িতে স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি তাঁর ছোট মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তিনি মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, নিজের মেয়ের বিয়ের পর তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যাবেন।
গ্রামবাসীর মধ্যস্থতা ও আইনি পর্যবেক্ষণ
অবশেষে প্রশাসনের চাপ এবং গ্রামবাসীদের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি আপোষনামা তৈরি হয়। মেয়ে প্রেমশান্তি তাঁর ব্যবহারের জন্য মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার প্রতিশ্রুতি দেন। বৃদ্ধা সরস্বতী দেবীকে তাঁর নিজের ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মহকুমা শাসক অনুভব সিং স্থানীয় লেখপাল ও পুলিশ ফাঁড়িকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন যাতে ওই বৃদ্ধার নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হয়। ভবিষ্যতে পুনরায় কোনো অভিযোগ উঠলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এক ঝলকে
- উত্তরপ্রদেশের কানপুরে ৭৬ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ।
- জেলা শাসক জিতেন্দ্র প্রতাপ সিংয়ের কাছে অভিযোগ নিয়ে হাজির হন অসহায় মা।
- প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দুই ঘণ্টা ধরে গ্রামে মা ও মেয়ের মধ্যে বিশেষ সালিশি সভা চলে।
- শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতিতা হয়ে বাপের বাড়িতে থাকা মেয়ে শেষ পর্যন্ত মায়ের কাছে ক্ষমা চান।
- বৃদ্ধার নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়মিত নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
